হযরত মুয়াবিয়া (রা)
উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুয়াবিয়া (রা)। তিনি ৬৬১ সালে উমাইয়া খিলাফতের সূচনা করেন।
ততকালীন আরবে মাত্র সতেরজন শিক্ষিত মানুষ ছিল, তার মধ্যে হযরত মুয়াবিয়া (রা) একজন।তাঁর পিতার নাম আবু সুফিয়ান এবং মায়ের নাম হিন্দা।তিনি মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। শিক্ষিত হওয়ার কারণে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁকে অহি লেখক হিসেবে নিযুক্ত করেন।
তিনি ৬০৫ সালে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
সিরিয়ার গভর্নর থাকা কালীন সময়ে হযরত ওসমান ( রা) হত্যার বিষয় নিয়ে হযরত আলি ও হযরত মুয়াবিয়া ( রা) সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় দুজনের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। হযরত আলি (রা) উক্ত যুদ্ধে পরাজিত হন। তবে উক্ত যুদ্ধে মুয়াবিয়া ( রা) একটি বিশেষ কৌশল খাটিয়েছিলেন । তিনি অসির মাথায় কুরআনের আয়াত লিখে যুদ্ধ ক্ষেত্রে যুদ্ধ থামিয়েছেন। হযরত আলি (রাঃ) সেই চালাকি বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি যুদ্ধ থামাতে চাননি। কিন্তু মুসলিমরা তাঁর কথার কোন কর্নপাত করেনি। যার ফলে হযরত আলি (রাঃ) যুদ্ধে পরাজিত হন।
তিনি একজন হাদিস বর্ণনাকারী।তিনি নবিজির শালক ছিলেন।
তিনি পদোন্নতি পেয়ে সিরিয়ার গভর্নর হন। তিনি মুসলিম ইতিহাসে প্রথম নৌবিহর যোগ করেন। তিনি কনস্টানটিয়াস জয় করেন।তিনি সাইপ্রাস জয় করেন। তিনি ডাক প্রথা প্রচলন করেন।তিনি মুদ্রা সংস্কার করেন।
হযরত আলির ইন্তেকালের পর হাসান (রা) সাথে বিশেষ চুক্তি করে মুসলিম বিশ্বের খলিফা হন। তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে সভাসদদের পরামর্শ ক্রমে পুত্র ইয়াজিদ কে উত্তরাধিকারি নিযুক্ত করেন। এই নিযুক্তির ফলেই ইসলামের ইতিহাসে শুরু হয় নতুন ধারার শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু হযরত হাসান (রা) সাথে চুক্তি ছিল মুয়াবিয়া (রা) পর মুসলিম বিশ্বের খলিফা হবেন হযরত হুসাইন (রা)। কিন্তু ইয়াজিদের মনোনয়নের ফলে সব কিছু পাল্টে যায়। মুসলিম বিশ্বের তৈরি হয় মেরুকরন। ইসলামের ইতিহাসে তৈরি হয় এক ভয়ংকর অধ্যায়। কারবালার প্রান্তের ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। যার কলঙ্ক মুসলিমরা আজও বয়ে বেড়াচ্ছে।যার দোষ চাপা হয় হযরত মুয়াবিয়া (রা) উপর। যদিও সম্পূর্ণ দায় ছিল পাপিষ্ঠ ইয়াজিদের।
ব্যক্তিগত জীবনে হযরত মুয়াবিয়া( রা) ছিলেন সৎ , আল্লাহ ভীরু, ন্যায় বিচারক,প্রজা হিতৈষী ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। বিনয়ী ভদ্র এবং পর উপকারী।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত শাসন ব্যবস্থা মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছিল প্রায় ৯০ বছর । আবুল আব্বাসের আক্রমনে যা ধ্বংস হয় ৭৫০ সালে।
এই মহান সাহাবি ৬৮০ সালে ইন্তেকাল কারেন। ইসলামের ইতিহাসে সৃষ্টি করেছেন নতুন শাসন বংশ।
কোন মন্তব্য নেই