মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান
আজ আমি আলোচনা করব মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান সম্পর্কে।
চেঙ্গিস খান ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ইয়েসুখেই এবং মায়ের নাম হলান।
তাঁর প্রকৃত নাম তেমুচিন। চেঙ্গিস খান হলো তাঁর উপাধি।
তেমুচিন শব্দের বাংলা অর্থ ইস্পাত এবং চেঙ্গিস খান নামের বাংলা অর্থ "পৃথিবীর অধিপতি"।
তাঁরা মুলত যাযাবর শ্রেণির লোক ছিল। তাঁরা ছিল খুব হিংস্র জাতি। যা পেত তাই তাঁরা ভক্ষন করত।বন্য শিয়াল,বিড়াল যা শিকার করতে পারত তাই তাঁরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত।তাদের পেশা ছিল পশু শিকার, পালন ও ছিনতাই করা।
যদি ও তাঁরা ছিনতাই করাকে কোন অপরাধ হিসেবে মনে করত না। এটাকে তাঁরা পুরুষোচিত গুন হিসাবে বিবেচনা করত। তাঁর মাকেও তাঁর বাবা অন্য আরেক জন থেকে কেরে নিয়ে এসে স্ত্রীর মর্যাদা দেন। সে ঘরেই তেমুচিনের জন্ম।
মঙ্গোল রীতি হলো শিশু বয়সে বিয়ে করা। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ও মাত্র ১২ বয়সে বিয়ে করেন। কিন্তু তাঁর বউকে তিনি ঘরে তুলতে পারেন নি। তাঁর স্ত্রীর নাম বোর্তে। তেমুচিন সতরে বছর বয়সে তার বাল্যবধূকে আবার পুনরায় নিয়ে আসেন। তিনি কয়েক হাজার নারীকে ধর্ষণ করেন।পৃথিবীতে তাঁর সন্তানের সংখ্যা অগণিত।তবে তিনি কেবল প্রথম স্ত্রীর চার সন্তানকেই স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তেমুচিন শিশু বয়সে পিতাকে হারান।তার পিতার মৃত্যুর পর তার গোত্রের সবাই তাঁকে এবং পরিবারকে ছেড়ে চলে যায়। অতি কষ্টে তিনি মায়ের ছায়াতলে বড় হন।
সেখান থেকেই তিনি নিজেকে কঠিন পরিশ্রমি হওয়ার দিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তার এ শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পদে পদে সাহায্য করেছিল।তিনি খুব পরিশ্রমি ছিলেন।মাত্র ছয় বছর বয়সে শিকারে যাওয়ার অনুমতি পান।
পিতার মৃত্যুর পর তিনি পরিবারের দায়িত্ব লাভ করেন। পারিবারিক ভাবে তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। কারণ তাঁর বাবা ছিলেন গোত্রপতি। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার গোত্রের লোকেরা তাঁর আনুগত্য মেনে না নিয়ে উল্টো তাঁর পরিবারকে একঘরে করে দেয়।
তিনি ১২০৬ সালে ক্ষমতায় আরোহন করেন। প্রথমে তিনি বিক্ষিপ্ত যাযাবর দল গুলিকে একত্র করে একক জাতিতে পরিণত করেন।এ জন্যে তাঁকে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের জনক বলা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজ্য প্রায় দেরশ বছরের মত রাজত্য করেছিল। তাঁর রাজ্যের আয়তন ছিল উত্তর কুরিয়া থেকে পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত। তিনি ছিলেন দুধর্ষ যুদ্ধা সেনাপতি ও সুনিপুণ সমর কৌশলী।
তিনি যে রাজ্যের দিকে নজর দিতেন সে রাজ্যই তাঁর পদতলে লুটে পরত। তিনি প্রায় ৪কোটির মত মানুষ হত্যা করেছিলেন। তাই তাঁকে বর্বরোচিত শাসক হিসাবে আক্ষায়িত করা হয়। তিনি যে রাজ্য জয় করতেন সে রাজ্য জনশূন্য হয়ে যেত।
তিনি অতন্ত্য রাগী মানুষ ছিলেন। তিনি কখনোই বিশ্বাস ঘাতকতাকে পছন্দ করতেন না। যারাই বিশ্বাস ঘাতকতা করতো তাদেরকে তিনি নির্মম ভাবে হত্যা করতেন।
তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদন্নোতি করতেন। যা তাঁর সমাজে প্রচলিত ছিলনা।এজন্য অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করত।
নিজ জাতিকে তিনি পৃথিবীর সকল জাতি অপেক্ষা বেশি ভালবাসতেন। নিজের জাতিকে সমগ্র জাতির উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর একক প্রচেষ্টায় বর্বর মঙ্গোল জাতি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়।
এই মহান শাসকের মৃত্যুর ঘটনা জন্ম দিয়েছে এক রহস্যের। অনেকে মনে করেন তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে পরে মারা গেছেন।কেউ বলেন তিনি চীনা রাজকুমারীর ছুরির আঘাতে মারা গেছেন। কেউ কেউ বলেন তিনি তীর বিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর রহস্য আজও রহস্যই রয়ে গেল জানা হলনা প্রকৃত রহস্য।
অনেকে তাঁর সমাধি খোঁজার চেষ্টায় রত আছেন। কথিত আছে তাঁর সমাধিতে ৭৮ জন রাজার মুকুট লুকিয়ে আছে। সেই সাথে প্রচুর ধনসম্পদ দিয়ে দেয়া হয়েছিল তাঁর সমাধিতে।
এ দুধর্ষ অপরাজেয় যুদ্ধা ১২২৭ সালে মারা যান। তাঁর সমাধি কোথায় আছে কেউ জানেনা। কথিত আছে তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যারা উপস্থিত ছিল তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়।
কোন মন্তব্য নেই