মুঘল সাম্রাজ্যের স্থপতি জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর - মিঃগবেষক

মুঘল সাম্রাজ্যের স্থপতি জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর

আজকে আমি আলোচনা করব মুঘল সাম্রাজ্যের স্থপতি জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর সম্পর্কে। 

মুঘল সাম্রাজ্যের স্থপতি জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর জন্ম গ্রহণ করেন 1483 সালে। ভারত উপমহাদেশে 1526 সালে তিনি যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন তার নাম মুঘল সাম্রাজ্য। 

তুর্কী বাবর শব্দের বাংলা অর্থ বাঘ। সত্যিই তিনি বাঘের মত কাজ করতেন।তিনি খুব বলবান ছিলেন। 

তিনি জন্ম গ্রহণ করেন  আফগানিস্তানের ফরগনা প্রদেশ। তাঁর  বাবার নাম উমর শেখ মির্জা মাতার নাম কুলতুক নিগার খানম। তাঁর বাবা ফরগনার শাসক ছিলেন।

তাঁর ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে পৃথিবী বিখ্যাত দুই বীর   তৈমুর লঙ্গ ও চেঙ্গিস খানের রক্ত। তিনি সরাসরি তৈমুরের বংশধর এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খানের।

বাবর মাত্র 12 বছর বয়সে ফরগনার সিংহাসনে বসেন।কিন্তু কিছু দিন পরেই তিনি ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হন। 

দীর্ঘদিন ধরে তিনি চেষ্টা করেও তাঁর রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হননি।সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো বাবর ভবঘুরের মত করে কাটিয়েছেন জীবনের অনেক গুলি দিন।

তিনি সমরখন্দ,কাবুল, ফরগনা সহ ভারত উপমহাদেশ শাসন করেছেন। তাঁর জীবন একটি বর্ণনীল জীবন।

১৫২৬ সালে ইব্রাহিম লোদীকে পানি পথের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত করে দিল্লিতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি মাত্র 5 বছর ভাতর শাসন করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সম্রাজ্য ভারত বর্ষে 4০০ বছর শাসন করেছিল। 
তিনি রণকৌশলী ছিলেন। তিনি দক্ষ সেনাপতি ছিলেন। 

তিনি দশটি বিয়ে করেছিলেন। তবে এ মতামতের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন অনেকে।তাঁর সন্তানের সংখ্যা ঊনিশ জন। 

কথিত আছে তিনি আফিম সেবন করতেন এবং তিনি উভকামি ছিলেন  (এ তথ্যের ঐতিহাসিক কোন শক্ত দলিল নাই)।

তিনি একজন সুন্নি মুসলমান ছিলেন।মৃত্যুর বছর কয়েক পূর্বে তিনি মদ্যপান ত্যাগ করেন।

তিনি বাবা হিসেবে খুবই অমায়িক ছিলেন। স্বামী হিসেবে তিনি ছিলেন প্রেমময়ী। শাসক হিসাবে ছিলেন দয়ালু।সেনাপতি হিসেবে ছিলেন দক্ষ ও সুনিপুণ সমর কৌশলি।

সম্রাট বাবরের পিতৃস্নেহের কথা লোক মুখে প্রচলিত আছে ,তিনি তাঁর পুত্র হুমায়ুনের সুস্থতা কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন তাঁর পুত্র সুস্থ হয়।পুত্র  হুমায়ুন সুস্থ হয় ঠিকই কিন্তু বাবর ইহলিলা ত্যাগ করেন। 

তিনি কবিতা লিখেতে পছন্দ করতেন ।এসব কবিতা এখন লোক্ গান হিসেবে গাওয়া হয়। সম্রাট  বাবর নিজের আত্মজীবনী লিখেছেন তুর্কী ভাষায়।তাঁর আত্মজীবনর নাম "তুযুক ই বাবরি "  বা বাবর নামা। পরবর্তীতে ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। 

তিনি ভাতের আবহাওয়া সইতে পারতেনা। তিনি ফরগনাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ মনে করতেন।তাই তিনি গ্রীষ্মের সময় ফরগনাতে বেড়াতে যেতে ভালবাসতেন।

তাঁকে উজবেকিস্তান ও কির্গিজস্তানে জাতীয় বীর হিসেবে আক্ষায়িত করা হয়।

এই মহান সম্রাট পৃথিবীর মায়া ছেড়ে1530 সালে পরপারে পাড়ি জমান। 

কোন মন্তব্য নেই

duncan1890 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.