আইয়ামে জাহেলিয়াত এবং বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা
আইয়ামে জাহেলিয়াত এবং বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য ?
আইয়ামে জাহেলিয়াতের অর্থ হবে অন্ধকার যুগ বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগ। ইসলামের ইতিহাসের পরিভাষায় এ শব্দটি রাসূল (স) এর আবির্ভাবের পূর্বেকার আরবদের অবস্থার উপর ব্যবহার হত। কেননা এ যুগে সাধারণত আরবগণ স্বভাব ও চরিত্রের দিক থেকে অজ্ঞতা ও মুর্খতার চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।
আমরা কেন তাদের অন্ধকার যুগের মানুষ বলি এটা প্রথমে জানা জরুরি।
১) তারা অন্যায় ভাবে মানুষের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতো।
২) বিভিন্ন পাপাচারের লিপ্ত থাকতো।
৩) কাসিদা প্রথা ছিল। ( কাসিদা প্রথা হলো কাউকে ঋণ দিলে সে যদি ঋণ পরিশোধে অক্ষম হতো তাহলে মহাজন তার পরিবারের লোকজনকে দাস হিসেবে নিয়ে যেত।
৪) নারীদের কোন মূল্য ছিলনা। ( কন্যা শিশুকে জীবন্ত কবর দিয়ে দেয়া হতো )
৫) সমাজে ব্যপক ভাবে জুয়া বিস্তার করে।
৬) জোর যার মুল্লুক তার প্রথা প্রচলিত ছিল।
৭) সমাজে সুদের প্রচলন অধিক হরে বেড়ে গিয়েছিল।
৮) অযথা যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো।
৯) চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক পেশা।
১০)নারীদের কোন সম্মান ছিলনা।
এইসব কাজগুলি করার কারণে আমরা তাদের অন্ধকার যুগের মানুষ বলে থাকি।
এবার আসি বর্তমান সমাজের অবস্থান কোথায় তা নিয়ে।
১) আমাদের সমাজে কি অন্যায় ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করে নেয়া হয়না।আমাদের সমাজেও মানুষের সম্পদ অন্যায় ভাবে অধিগ্রহণ করা হয়। তাহলে তাদের সাথে আর আমাদের সাথে কি তফাৎ। আমরা কেন তাদের জাহিলিয়াতের বা অন্ধকার যুগের মানুষ বলি।
২) তারা বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত থাকতো আমরা থাকিনা। একটু খোলা চোখে দেখলেই বুঝা যাবে কিছু কিছু বিষয়ে আমরা তাদেরকে অতিক্রম করেছি। তাহলে তাদেরকে কেন আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।
৩) তাদের সমাজে কাসিদা প্রথা ছিল আমাদের সমাজে নেই। আমাদের সমাজে ও কাসিদা প্রথা আছে। তবে আমাদের কাসিদা প্রথা একটু মডিফাই ( ব্যতিক্রম ) করা।
৪) মেয়ে শিশুদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো। আমাদের সমাজে এই জঘন্য প্রথা নেই ? আমাদের সমাজে এর চেয়ে জঘন্য প্রথা প্রচলিত। তারাতো তাদের সন্তানের মুখটুকু দেখতেপেতো কিন্তু মারা তও পারিনা। পৃথিবীতে আসার আগেই তাদেরকে মেরে ফেলি। কি মেরে ফেলিনা। যখন এক্সরে রিপোর্টে দেখি কন্যা শিশু তখন এবোশন ( অস্রপাচার ) করে পৃথিবীতে আসার আগেই মেরে ফেলি। আমরা কি তাদের থেকে বেশি জুলুম করছি না। তাহলে আমরা কোন যুগে বাস করছি। আমরাও অগ্যতার ( মূর্খের ) সময়ে বাস করছি। শুধু মুখেই বলছি আমরা সভ্য কিন্তু আমরা তাদের থেকেও বেশি হিংস্র।
৫) সমাজে ব্যপক ভাবে জুয়া ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের সময়ে তাই আমরা তাদের অন্ধকারের মানুষ বলে থাকি। কি আমাদের সমাজে জুয়া নেই। আমাদের সমাজে বৈধ ভাবে জুয়া চলে.তার মানে এই নয় কি আমরা তাদের থেকে বেশি অন্ধকারে আছি। আমাদের আছে ক্যাসিনো ,ক্রিকেট ,দাবা আরো কত কি সব জুয়া খেলার আসর। নাম শুধু একটু ব্যতিক্রম। আমরা এই জুয়াকে বিনোদন নাম দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছি।
৭) তাদের সমাজে সুদ প্রচলিত ছিল বলে তাদের আমরা মন্দ বলি। কিন্তু আমাদের সমাজে প্রতিটা কাজেই সুদ ছাড়া চলেনা। আমাদের সমাজে হাজার হাজার ব্যাংক রয়েছে। যে খানে কোটি কোটি টাকা সুদ চলে .সুদ ছাড়া তো ব্যাংক চলবেই না। আরো আছে এন জি ও নামের প্রতিষ্ঠান। যাদের প্রধান যায় হলো সুদ।
৮) অযথা যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো তারা তাই তাদের নাম দিয়েছি জাহিলিয়াতের বাসিন্দা। আমরা কি যুদ্ধ করিনা। আমাদের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায়। কয়েক দশক ধরে যুদ্ধ চলতে থাকে। একেকটা বোমা মারি কয়েক হাজার মানুষ নিমিষের মধ্যেই মেরে ফেলি। তারাতো আমাদের মতো এতো রক্ত পিপাসু ছিলনা। তাহলে আমরা কিভাবে তাদের নিন্দা করি। আমাদের লজ্জা থাকা উচিত।
৯) চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক পেশা। আর আমাদের সমাজে কি ? আমাদের সমাজে এর চেয়ে বড় টা চলে। কলমের খোঁচা। যা দিয়ে সারা জীবন চলা যায়।
১০) তাদের সমাজে নারীদের সম্মান ছিলনা। আমাদের সমাজে কি নারীদের সম্মান বেশি? আপনি একটু তাকালেই দেখতে পাবেন। এ সমাজে নারীদেরকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটা টিভি চ্যানেলে নারীদেরকে দিয়ে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এতে করে কি নারীদের সম্মান কমছে না বাড়ছে? আমরা শুধু এখানে সেলিব্রিটি হইছি তাই দেখতেছি। কিন্তু এতে করে তাদের সম্মান প্রতিপত্তি কমছেনা? শুধু এখানে কেন সব স্থানেই দেখা যায়। কোন কোন দেশে নারীদের ভোটাদিকার দেয়া আছে?

কোন মন্তব্য নেই