শিয়া কারা ?
শিয়া কারা ?
হযরত মুহাম্মদ ( সা) এর ইন্তেকালের সময় থেকেই ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনা ঘটে। তা হলো কে পরবর্তী খলিফা হবেন বা ইসলামী খেলাফত কে পরিচালনা করবেন। শুরু হয় ঝামেলা। কেউ বলে আনসারগন হবেনা। কেউ বলেন মুহাজেরগণ হবেন। আবার অনেকে বলেন শুধু আলী (রাঃ ) হবেন। এ নিয়ে শুরু হয় নতুন সমস্যা। এদিকে নবীজির দেহ এখনো কবর দেয়া করা হয়নি।
পরবর্তী খলিফা নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল,সেই সমস্যাকে কেন্দ্র করেই শিয়াদের আবির্ভাব। অনেকেই হযরত আলীকে (রাঃ) খলিফা হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন হযরত আলী (রাঃ ) খলিফা হননি তখন ঐ আলী পন্থীরা নতুন দল গঠন করে। ইতিহাসে তারাই শিয়া নামে পরিচিত।
শিয়ারা মূলত হযরত আলী (রাঃ ) কেই ন্যায্য খলিফা মনে করেন। এজন্যেই তাঁরা অন্য কোন খলিফাকে স্বীকৃতি দেয়না। তারা মনে করে অন্যারা সবাই জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে বা ন্যায় সঙ্গত ভাবে হয়নি।
হযরত আলী (রাঃ ) পক্ষে তাঁদের যুক্তি হলো তিনি নবীজির আপন চাচাতো ভাই এবং মেয়ের জামাতা। তিনি নবীজির সাথে থেকেই বড় হয়েছেন এবং তিনি একজন কুরাইশি।
তাঁরা ইসলামের কালেমার সাথে নতুন কিছু যোগ করেছে। আলী খলীফাতুল্লাহ এই বাক্যটি তারা নতুন যুক্ত করেছে ।
তাঁরা যেমনি করে ইসলামের প্রধান তিন জন সম্মানিত খলিফাকে অস্বীকার করে তেমনি কিছু হাদিস ও অস্বীকার করে। বিশেষ করে হযরত আয়শা (রা ) হাদিস গুলিকে তারা স্বীকার করেন বা মেনে নেয়না।
তাদের সাথে সুন্নি মতের মানুষদের সাথে এদিক দিয়েই বিশেষ ভাবে অমিল।
শিয়ারা আবার অনেক গুলি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ আছেন দ্বাদশ ইমামে বিশ্বাসী আবার কেউ আছেন ইস্মাইলীয়।
সমগ্র পৃথিবীতেই শিয়া মুসলিমরা আছে। বিশেষ করে ইরান ,সিরিয়া,ইরাক,জর্দান ইত্যাদি দেশে।
অনেক সুন্নি আলেম তাঁদেরকে মুসলিম বলতে নারাজ।
অবশেষে আমরা বলতে পারি ইসলামের প্রথম দিকের খলিফা নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসে তারাই শিয়া।
আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করেদিন। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আপনার সাহায্য ছাড়া কারো সাহায্য কামনা করিনা। সাহায্য কারীদের মধ্যে আপনি সবার সেরা। আল্লাহ আপনি আমাদের মা-বাবাকে ক্ষমা করে দিন। যেসব মুসলিমরা কবরে আছেন তাদের সকলকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতে দাখিল করুন। আল্লাহ আপনি আমাকে এবং আমাদেরকে মুক্তি না দিয়ে মৃত্যু দিয়েন না। আল্লাহ আপনি আমাদেরকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করুন।

কোন মন্তব্য নেই