ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার কারণ - মিঃগবেষক

ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার কারণ

 ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার কারণ 

দুর্বল শাসকের শাসন জনিত কারণে একটি দেশ হারিয়ে যেতে পারে। কোন শাসকের যদি  ক্যারিশমাটিক শাসন পদ্ধতি না থাকে তাহলে সে দেশ কিভাবে টিকে থাকবে। যদি কোন শাসক শাসন কার্য ফেলে আমুদফুর্তিতে দিনযাপন করে সে দেশ শুধু সময়ের দাবি রাখে ছিটকে পড়া থেকে। দূর্বল শাসনের কারনে অভ্যান্তরিন কোন্দল দেখা দিতে পারে। কিন্তু দুর্বল শাসক কখনো তা সামাল দিয়ে পারবেনা। শাসকের অব্যশই দীৰ্চিত্যের অধিকারী হতে হবে। স্খল প্রকার সমস্যার মোকাবেলা করার মতো সাহস ও ক্ষমতা দুটাই থাকতে হবে। 

সামরিক শক্তির দুর্বলতার কারনে একটি দেশ চিরকালের জন্য হারিয়ে যেতে পারে। পৃথিবীতে এমন শত শত নজির আছে। সামরিক শক্তির দূর্বলতার কারণে অন্য দেশের আক্রমন প্রতিহত করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন ইব্রাহিম লোদীকে পানি পথের প্রথম যুদ্ধে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে শক্তিশালী মোগলরা ভারত দখল করেছিল। আবার যেমন জার্মানির সামরিক শক্তির দূর্বলতার কারণে তারা প্রথম যুদ্ধে মিত্রশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল। সুতরাং দেখা যাচ্ছে সামরিক শক্তির দূর্বলতাই একটি দেশর টিকে থাকা নির্ভর করছে। 

প্রাকৃতিক নিয়ম ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন বলেছেন কোন রাজবংশই শৌর্য-বীর্য নিয়ে ৯০ বছরের বেশি শাসন কার্য পরিচালনা করতে পারেনা। তার  মানে প্রাকৃতিক নিয়মেই মানুষ তার জৌলস হারাবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই আমি বলতে চাই প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষ ধ্বংস বা ক্ষমতা হারাবে। 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর কারণে অনেক সময় ক্ষমতা হারিয়ে জিতে পারে। আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো পৃথিবীর অনেক সভ্যতা হারিয়ে গেছে ভিবিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পরে। তাই আমি বলতে চাই ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রাকৃতিক দূর্যোগ। 

অর্থ সংকট আরো একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ন কারন যেকোন রাজবংশ  বা দেশের ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার জন্য। 

যুদ্ধে লিপ্ত থাকা আরো একটি অন্যতম কারন ,অযথা সারা বছর যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে থাকতে সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পরে এবং অর্থ সংকট দেখা দে এতে করে অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়ে পরে। 

যোগ উপযোগী সিদ্ধান্ত ঘাটতির কারণে যেকোনো সময় যেকোন দেশের ক্ষমতা হারিয়েযেতে পারে। যেমন মোগল সম্রাটদের কথা এখানেউল্ল্যেখ করা যেতে পারে। তারা যদি যোগউপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারতো তাইলে ব্রিটিশরা কখনো এদেশে শাসন করতে পারতোনা। তাই আমি বলতে চাই যোগউপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ক্ষমতা হারিয়ে যাবে। 

অন্য দেশের আক্রমণ আরো একটি কারণ। একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে অন্য একটি শক্তি আক্রমন করার মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে পারে। আব্বাসীয় বংশকে হালাকুখান মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। ৫শত বছরের প্রতিষ্ঠিত একটি রাজবংশকে। তাই তাই বলা জিতে পারে ক্ষমতা হারানোর অন্য একটি বিশেষ কারণ হলো অন্যদেশের আক্রমন। 

কূটনৈতিক ব্যর্থতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ ক্ষমতা হস্তচ্যুত হওয়ার জন্য। যদি একটি দেশের কূটনৈতিক ক্ষমতা সে ভাবে কাজ করতে না পারে তবে ক্ষমতা ফস্কে যাবে। যদি আব্বাসীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকতো বা কৌশলী হতো তাহলে অতো সহজে হালাকুখান ধ্বংস করতে পারতেন না। 

অত্যাচার / জুলুম  এটিও একটি অন্যতম কারণ। কেননা যদি কোন ক্ষমতা বা দেশ কারো উপর অত্যাচার / জুলুম চালায় তবেও তারা ক্ষমতা হারাতে পারে। যেমন পাকিস্তানী শাসন এদেশ থেকে গুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো তারা আমাদের  দেশের মানুষকে শাসনের নামে অত্যাচার / জুলুম করেছিল। তাই এদেশের মানুষ নিজের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। অর্থাৎ জুলুম অত্যাচার করলেও ক্ষমতা হারিয়ে যায়। 

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা আরো একটি অন্যতম কারণ। কেননা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা থাকলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলা যায়না। যার ঘরের রাজনীতির ঠিক থাকেনা সে কিভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব খাটাবে। 

কোন মন্তব্য নেই

duncan1890 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.