নামাজ কি ?
নামাজ কি ? নামাজ হলো মুসলিমদের প্রার্থনা। বিশদ ভাবে বলতে গেলে ,নামাজ হলো মুসলিমদের একটি দৈনিক নিয়মিত প্রার্থনা বা আমল বা কাজ । এটি আল্লাহ কর্তৃক প্ৰদত্ত আইন বা হুকুম। নবুয়াতের ১০ম বছরে নামাজকে ফরজ করা হয়েছে।
নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ আল কুরআনে অনেকবার আদেশ করেছেন। আল্লাহ নামাজকে জমিনে ( পৃথিবীতে ) প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন। প্রত্যেক মুসলিমের অব্শ্যই পালনীয় একটি আমল হল নামাজ।
নামাজ একটি ফারসি শব্দ। নামাজের আরবি শব্দ হলো সালাত। দৈনিক প্রত্যেকটা মুসলিমকে ৫ বার নামাজ পড়তে হয়।
আল্লাহ আল কুরআনে বলেছেন
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ
"(হে রাসূল) তুমি তোমার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব তেলাওয়াতা করো এবং নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয় নামাজ (মানুষকে) অশ্লীলতা ও কদর্যতা হতে দূরে রাখে। আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন।" (২৯:৪৫)
নামাজের প্রকারভেদ
নামাজ সাধারণত ৪ প্রকার, ফরজ ,ওয়াজিব,সুন্নত এবং নফল।
দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় সূচি ,ফজর,জোহর,আসর ,মাগরিব,এশা ,বিতির ,আওয়াবিন এবং এশরাক।
এ ছাড়াও আরও কিছু নামাজ আছে যেমন দুই জুম্মার নামাজ , জানাজা নামাজ ,ঈদের নামাজ ,তারাবি নামাজ।
দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজের কোন এক ওয়াক্ত নামাজ যদি কোন কারণে পড়তে সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তবে সে নামাজ পরবর্তীতে পড়তে হবে, এ নামাজ কে কাজা নামাজ বলে।ফরজ নামাজের কাজা পড়তে হয়।
আপনি যদি ভ্রমনে থাকেন তবে সে ক্ষেত্রে আপনি সংক্ষিপ্ত ভাবে নামাজ পড়তে পারবেন। সে নামাজকে কসরের নামাজ বলে। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ঐ নামাজকেই সংক্ষেপে পড়তে পারবেন যে নামাজ ৪ রাকাত করে পড়তে হয়। বিশেষ করে জোহরের ৪ রাকাত ফরজ ,আসরের ৪ রাকাত ফরজ এবং এশার ৪ রাকাত ফরজ।
নামাজের উপকারিতা ,নামাজের বহুবিধ উপকারিতা আছে। যেমন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা , মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা যায় , পাড়া প্রতিবেশীর সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় এতে করে পারিবারিক খোঁজ খবর নেয়া যায়। অনেক কিছু শিখা যায় বিশেষ করে জুম্মার নামাজের পূর্বে ইমাম সাহেব মুসল্লিদের উদ্দেশ্য করে যে ভাষণ দিয়ে থাকে তা থেকে। নামাজের মাধ্যমে মানুষ সভ্য হওয়ার শিক্ষা পেয়ে থাকে। কারণ নামাজে সবাইকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে হয়। এতে করে মানুষ নিয়মানুবর্তিতা শিখতে পারে। নামাজ থেকে আমরা আরো শিখতে পারি সৌহার্দতা। নামাজ পড়লে সবাইকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে হয় এতে করে কে ধনী কে গরিব কোন প্রকার বৈষম্য করা যায় না। নামাজ মানুষকে সময় নিষ্ঠা করে তোলে। কারন প্রতিদিন মানুষকে ৫ বার সময় মত নামাজ পড়তে হয়।
নামাজ পড়ার জন্য মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদের উচু স্থান থেকে আযান দিবেন।
নামাজের কিছু সময় আছে ,যে সময় গুলিতে নামাজ পড়া নিষেদ করা হয়েছে। যেমন সূর্য উঠার সময়,সূর্য ঠিক যখন মাথার উপরে থাকে তখন এবং সূর্যাস্তের সময়।
কোন নামাজ কয় রাকাত নিম্নে বর্ণনা করা হলো।
ফজরের নামাজ ৪ রাকাত।দুই রাকাত ফরজ এবং দুই রাকাত সুন্নাত। দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ ফরজের পূর্বে পড়তে হবে।
জোহর নামাজ ১০ রাকাত। ৪ রাকাত ফরজ ,৪ রাকাত সুন্নাত এবং আরো ২ রাকাত সুন্নাত। প্রথম ৪ রাকাত সুন্নাত ফরজ নামাজের পূর্বে পড়তে হবে। ২ রাকাত সুন্নাত ফরজের পরে পড়তে হবে।
আসরের নামাজ ৮ রাকাত। ৪ রাকাত ফরজ ,৪ রাকাত সুন্নাত। আসরের ৪ রাকাত সুন্নাত আগে পড়তে হবে। আসরের ফরজ নামাজের পরে মাগরিব নামাজের আগে পর্যন্ত কোন প্রকার নামাজ পড়া যাবেনা। সুন্নাত বা নফল কোন নামাজ পড়া যাবেনা। মাগরিব নামাজ ৫ রাকাত। ৩ রাকাত ফরজ এবং ২ রাকাত সুন্নাত। ২ রাকাত সুন্নাত ফরজ নামাজের পরে পড়তে হয়।
এশার নামাজ ১৩ রাকাত। ৪ রাকাত ফরজ ,৪ রাকাত সুন্নাত ,২ রাকাত সুন্নাত এবং ৩ রাকাত বিতির। ৪ রাকাত সুন্নাত ৪ রাকাত ফরজ নামাজের আগে পড়তে হয়।
জুম্মার নামাজ ২ রাকাত। শুক্রবারের জোহরের ফরজ নামাজের পরিবর্তে পড়তে হয়। জুম্মার নামাজের পূর্বে ভাষণ ( খুৎবা ) দিতে হয়।
কসরের নামাজ বা ভ্রমনের সময় যে নামাজ পড়া হয়। কসরের নামাজকে তাড়াহুড়ার নামাজ ও বলা হয়। কসরের নামাজ ২ রাকাত পড়তে হয়। তবে ইমামের সাথে পড়লে পুরা( সমগ্র ৪ রাকাত বা ৩ রাকাত ) নামাজ পড়তে হবে।
ঈদের নামাজ ২ রাকাত পড়তে হয়। ইমাম যখন তাকবীর দিবেন তখন হাত তুলতে হবে।
জানাজার নামাজ কোন সেজদাহ নেই। ইমাম নামাজ পড়ে যাবে।
নামাজের পূর্বে ভালো করে ওযু ( হাত, মুখ,পা ভালো করে ধোয়া এবং মাথা মাসেহ করা )করতে হবে।
নামাজ এর বাংলা হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা।
ভালোভাবে অজু করে কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়তে হয়। আল্লাহু আকবার তাকবীর দিয়ে কান পর্যন্ত হাত কিবলামুখী করে বাঁধতে হবে। তারপর সানা পড়তে হবে। সূরা ফাতিহা শেষ করে অন্য একটি সূরা পড়তে হবে। কমপক্ষে ৩ আয়াত সমান কেরাত পাঠ করতে হবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে রুকূ( হাত দিয়ে হাটু ধরতেহবে এবং খেয়াল রাখতে হবে পিঠ এবং মাথা যেন সমান্তরাল থাকে স্বয়ং হাত টানটান অবস্থায় থাকতে হবে.হাটু সোজা থাকতে হবে ) করতে হবে। সামিআল্লাহুলিমান হামিদা বলে সোজা হতে হবে( এখানে তাজবীহ আছে )। কিছুক্ষন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সিজদায় যেতে হবে আল্লাহু আকবার বলে। আল্লাহু আকবার বলে বসতে হবে। এভাবে দুইটা সেজদাহ দিতে হবে।এমনি করে ৪ রাকাত নামাজ শেষ করতে হবে। প্রতি দুই রাকাতের মাঝে বসে তাশাহুদ হবে করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই