আমরা কেন আল্লাহ কে দেখতে পাইনা ?
আমাদের মনে প্রায়ই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে ,আমরা কেন আমাদের স্রষ্টা কে দেখতে পাইনা। হয়তো বা অনেকের বেলায় নাও হতে পারে তবে আমার মনে প্রশ্ন জাগতো । আবার অনেকেই আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেন। আমরা কেন আমাদের স্রষ্টাকে দেখতে পাইনা ?
আমি জানিনা আমার আলোচনা কতটা সঠিক হবে। তারপর ও আলোচনা করার দুঃসাহস দেখাচ্ছি। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।
আল্লাহর নবী রসূলরা যখন দাওয়াত দিতেন তখন অনেকেই আমার মত এই একই প্রশ্ন করতেন " আমরা কেন আমাদের স্রষ্টাকে দেখিনা " নবী রসূলগন গঠন মূলক উত্তর দিয়েছেন। যাদের কপালে পরকালের ক্ষমা লিখা আছে তাঁরা বুঝতে পড়েছেন যাদের কপালে ক্ষমা লিখা নেই তারা বুঝতোনা। তাই তারা ঈমান আনতে পারেনি।
এখন আমি আমার মত করে উত্তর বা আলোচনা করবো। আমি শুরুতেই বলেছি ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
যদি স্রষ্টা কে দেখা যেত ,তাহলে তখন কিছু লোক প্রশ্ন আরোপ করতো স্রস্টাকে দেখা যায় এ আবার কেমন স্রষ্টা। স্রষ্টা থাকবে সবার উপরে, কেউ যেন তাকে দেখতে না পায়। স্রষ্টা থাকবে দৃষ্টিরাগোচরে।
যদি স্রষ্টা কে দেখা যেত ,তাহলে স্রষ্টার গ্রহণ যোগ্যতা কমে যেত।তাই স্রষ্টা দৃষ্টি সীমার বাহিরে। কারন মানুষ এমন এক জিনিস ,তারা যেমন না দেখা স্রষ্টা বিশ্বাস করেনা আবার তেমনি যদি স্রষ্টা দেখা যেত তখন তারা আবার উল্টা প্রশ্ন জুড়ে দিত।
মানুষ বেহুদা চিন্তা ভাবনা করে থাকে। নিজের মনকে কখনো জিজ্ঞাসা করেনা ও মন তুমি কে বা তুমি কেন এসেছ ? তারা নিজেদের সৃষ্টি নিয়ে যত টুকু ভাবে তারচেয়ে বেশি ভাবে তার স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছে।
এবার আসি আমরা কেন আমাদের স্রষ্টাকে দেখিনা?
সব জিনিস যে দেখা যাবে এমন তো কোন কথা নেই তাইনা ? অনেক জিনিস আছে যা চোখে দেখিনা। তাই বলে কি আমরা তা বিশ্বাস করিনা। আমরা কি আগুনের তাপ দেখি ,দেখিনা অনুভূত হই। না দেখেতো আমরা বিশ্বাস করছি আগুনে তাপ আছে। অনেকে আবার বলবে এটা তো আমরা সরাসরি উপলব্ধি করছি। আমার কথা হলো অনেকেই তো স্রষ্টা যে আছে তা উপলব্ধি করছে।
স্রষ্টা দেখতে হলে আমাদেরকে ডাইমেনশন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে ,কেননা অনেক কিছুই আছে যা দেখা যাবে না। মহা বিশ্বে অনেক রকমের ডাইমেনশন আছে। নিচের লেবেলের ডাইমেনশন উপর লেবের ডাইমেনশন কে দেখতে পায়না। অর্থাৎ ১ম ডাইমেনশন ২ ডাইমেনশন কে দেখতে পাবেন।
মনে করুন আপনি একটা মোবাইল বানিয়ে আফ্রিকার কোন এক দেশে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন কেউ যদি বলে মোবাইলের স্রষ্টা কেন আমি দেখিনা। তার মানে এটা কি একটা অবান্তর প্রশ্ন হবে না। যদি মোবাইলের কোন স্রষ্টা নাই থাকতো তাহলে এই মোবাইল কে বানাইল। আবার মোবাইল যদি চিন্তা করে আমারে কে বানাইছে তাহলে সে কি তার স্রষ্টার খোজ কখনো পাবে। কিন্তু মানুষ যদি তার স্রষ্টার খোঁজ করে তবে সে তার স্রষ্টার খোঁজ পাবে।
তিনি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন আড়ালে থেকে। যেন আমরা না দেখা স্রষ্টায় বিশ্বাসী হই। যারা বিশ্বাস আনবে তারাই মুক্তি পাবে। যারা আনবেনা তারা আগুনে জ্বলবে।
স্রষ্টা আমাদের দৃষ্টি বাহিরে। কিভাবে ? বলুন তো দেখি আমি আপনি চোঁখে কতটুকু দেখি কত মাইল দূর পর্যন্ত দেখি ? সাধারণত দেয়ালের ওপারে কি আছে তাই দেখিনা। স্রষ্টা তো দেয়ালের ও পারেও থাকতে পারে তাইনা ? আচ্ছা আমরা কি অনু পরমাণু চোঁখে দেখি ? না চোঁখে দেখিনা। আমরা সাধারণত অনু পরমাণুই দেখিনা। ঠিক তখনি দেখি যখন আমাদের চোঁখ বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে।
মনে করুন ,এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বাতি কি লক্ষ বা তার চেয়ে বেশি ওয়াটের বাতির কাছে দেখা যাবে? না দেখা যাবেনা। আচ্ছা পৃথিবী যে প্রতি নিয়ত ঘুরছে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি ? না আমরা দেখছিনা। কারন আমাদের ব্রেইন এতো শক্তি শালী নয় যে আমরা পৃথিবীর ঘুরপাক দেখতে পাবো বা বুঝতে পারবো। আচ্ছা আমরা কি খালি চোখে সূর্যের ভিতরে কি আছে দেখতে পাই ? পাইনা। আমরা সাধারণত আবদ্ধ বাক্সের ভিতর কি আছে তাই দেখিনা তাই না? আচ্ছা এমন কেউ কি আছে যে এক লক্ষ ওয়াট যুক্ত বাতির ভিতর যে ফিলামেন্টের তার থাকে ( যেখান থেকে আলো উৎপন্ন হয় ) সেই ফিলামেন্টের তারের কি অবস্থা বলতে পারবে ? আমাদের ঘরের ভিতরে যে এনার্জি বাতি দেখি সেই আলোর উৎসের দিকেই আমরা তাকাতে পারিনা আমাদের চোখ জ্বলসে যায়( আসে )। এন্ড্রয়েট মোবাইলের কেমেরা দিয়ে কি দশ হাজার ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বাতির ফটো তুলতে পারবে ? কখনই পারবে না। তাহলে কি ভাবে আমরা চিন্তা করি এই সাধারণ চোখ দিয়ে আল্লাহ ( স্রষ্টা ) দেখবো। এই সব চিন্তা চেতনা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। আল্লাহ দেখতে হলে আমাদের আরো অনেক শক্তিশালী চোখ লাগবে। কি পরিমান শক্তিশালী চোখ থাকলে দেখা যাবে তা কেবল আমাদের স্রষ্টাই ভালো বলতে পারবেন।
আচ্ছা মনে করুন আপনি একটা রোবট বানিয়েছেন ? এখন সেই রোবট যদি চিন্তা করে আমি আমার স্রষ্টাকে দেখবো ,সে কি আপনাকে দেখতে পারবে ?যতক্ষণ না আপনি তাকে সে ক্ষমতা ( দেখার ক্ষমতা ) দিবেন। পারবে না। সে কখনোই আপনাকে দেখতে পারবে না। আপনি তার মধ্যে যত টুকু ক্ষমতা দিবেন সে কেবল ঐ পরিমান ক্ষমতাই পাবে এর বেশি কিছু সে করতে পারবে না।
আমি আপনি কি ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই ? কিন্তু ব্ল্যাক হোল তো আছে। তারপর ও আমরা দেখতে পাইনা কারন আমাদের মস্তিষ্কে এতো ক্ষমতা দেয়া নেই। যেই ক্ষমতার বলে আমরা সব কিছু দেখতে পারবো। গবেষণাগারে যখন বিক্রিয়া ঘটে তখনো কিন্তু আমরা দেখতে পাইনা কারন আমাদের ব্রেন এতো ক্ষমতা সম্পন্ন নয়। ফুলের যে বৃদ্ধি ঘটে তা কি আমরা দেখতে পাই ? আমরা কিন্তু বাতাস ও দেখতে পাইনা। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের ভিতরে যে একটা প্রাণ আছে সেটাই তো আমরা দেখিনা। সব কিছু যদি আমরা আমাদের মত করে চিন্তা করি তাহলে তো হবে না। প্রকৃতির ও তো কিছু নিয়ম থাকতে পারে। যেমন কিছু জিনিস দেখা যাবে আর কিছু জিনিস দেখা যাবে না। স্রষ্টার বেলায় হয়তো এমন ই যে তাঁকে দেখা যাবেনা।
ঠিক তেমনি করে আমাদের স্রষ্টা আমাদের কে লিমিটেড ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই আমরা তাকে দেখতে পাইনা। আমাদের চোঁখের ক্ষমতা নিদ্রিষ্ট সীমা পর্যন্ত দেখতে পায়। তার বেশি দেখতে পায়না। যেমনি করে একটি এন্ড্রয়েট মোবাইল কেমেরার পিক্সেল ফিক্সড করে দেয়া হয়। ঠিক তেমনি করে আমাদের ক্ষমতা ফিক্সড করে দিয়েছেন।
আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে বুঝানোর করেছি চেষ্টা করেছি । জানিনা কতটুকু বুঝাতে পেরেছি।

কোন মন্তব্য নেই