মুদ্রাস্ফীতি কী ?
মুদ্রার মান কমে যাওয়াকেই মুদ্রাস্ফীতি বলে। অর্থাৎ মুদ্রার মানের তুলনায় যদি পণ্যের দাম বেশি হয় তখনি মুদ্রাস্ফীতি বলে।
মনে করুন আপনি অতীতে কোন একটি পণ্য ১০ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারতেন কিন্তু ঠিক ঐ পণ্যটি ক্রয় করতে আপনাকে আগের তুলনায় বেশি টাকা ব্যায় করতে হচ্ছে এটাই মুদ্রাস্ফীতি।
অর্থাৎ বেশি টাকার বিনিময়ে স্বল্প পণ্য বা সেবা পাচ্ছেন এটাই মুদ্রাস্ফীতি। মুদ্রাস্ফীতি হলো ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। মুদ্রাস্ফীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মুদ্রাস্ফীতি হলো মুদ্রা সঙ্কোচনের বিপরীত।
মুদ্রাস্ফীতি কেন হয় ? একক কোন কারণে মুদ্রাস্ফীতি হয় না। অনেক গুলো কারণে মুদ্রাস্ফীতি হয়। যে যে কারণে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সমাজে সুদের প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়া। সমাজে যখন সুদের প্রচলন বৃদ্ধি পায় তখন উৎপাদন ব্যায় বৃদ্ধি পায়। কেননা সুদের সাথে উৎপাদনের সম্পর্ক জড়িত। মানুষ সাধারণত সুদ নিয়ে থাকে কোন ব্যবসায় বা কারখানার কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য। অর্থাৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য। এইজন্য বলতে পারি সুদের সাথে মূদ্রাস্ফীতির মিল আছে বা সম্পর্ক আছে। যদি আমরা সমাজ থেকে মুদ্রাস্ফীতি দূর করতে চাই তবে প্রথমেই আমাদেরকে সমাজ থেকে সুদ দূরিভূত করতে হবে।
মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম কারণ হলো উৎপাদন হ্রাস পাওয়া। চাহিদার সাথে যদি যোগানের সামঞ্জস্যতা না থাকে তখনি মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কেননা অপ্রতুলতাই পণ্যে দাম বৃদ্ধি করে। অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট হলো যদি চাহিদার তুলনায় যোগানের পরিমান কম থাকে তখন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। আর এ বৃদ্ধি পাওয়াকেই মুদ্রাস্ফীতি বলে।
মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম কারণ হলো চাহিদার পরিমাণ যদি যোগানের পরিমানের চেয়ে কম হয়। অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট হলো , যদি চাহিদার তুলনায় যোগানের পরিমান কম থাকে তখন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। আর এ বৃদ্ধি পাওয়াকেই মুদ্রাস্ফীতি বলে। রাষ্ট্র অনেক সময় উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য বিপুল পরিমান সুদ মুক্ত ঋণ দিয়ে থাকে। এতেও যদি কাজ না হয় তখন আমদানির উপর নির্ভর করে। এতেকরে কিছুটা মুদ্রাস্ফীতি কমে। তাই আমরা বলতে পারি চাহিদার তুলনায় যদি যোগানের পরিমান কম হয় তখনি মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় বা মুদ্রাস্ফীতি হয়।
ঋণখেলাপি বৃদ্ধি পেলে একটি দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কেননা,অনেক গুলি টাকা একজন মাত্র ব্যাক্তির দখলে চলে যায়। এতে করে উৎপাদন কমে যায়।
অবৈধ আয় বৃদ্ধি পেলেও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কারণ,সে বেপরোয়া ভাবে খরচ করতে থাকবে। এতে করে সমাজে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। একজন ঘুষখোর কখনো মিতব্যয়ী হতে পারবেনা। এতে করে অসুস্থ প্ৰতিযোগিতা আরম্ভ হয়ে যাবে। যার ফায়দা লুটবে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
প্রচার বৃদ্ধির পেলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কারণ,এটি একটি বাড়তি খরচ। উৎপাদন খরচের সাথে যোগ করে কোন একটি পণ্যের বিক্রয় মূল্য ধরা হয়। সুতরাং প্রচার খরচ যত বৃদ্ধি পাবে পণ্যের দাম ততো বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি খরচ বৃদ্ধি হলে ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কারণ সরকার তার নিজের খরচ মিটানোর জন্য জনগনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে কর বৃদ্ধির মাধ্যমে।
বিলাসিতা বৃদ্ধি পেলে ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কারণ বিলাসিতা মানেই তো অপচয়। আর সমাজে যখন অপচয় বেড়ে যায় তখন মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। কারণ একজন বালাসী ব্যাক্তির কাছে মূল্য কোন বিষয় নয়। সে চায় সবার চেয়ে সেরা পণ্যটি। এই বিলাসিতার কারনে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দামি দামি পণ্য উৎপাদন করে থাকে। আর এতে করে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
অপচয় বৃদ্ধি পেলে সমাজে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। কারণ তখন একের পর এক পণ্য পরিবর্তিত হতে থাকে। আর অপচয়কারী পণ্যের মূল্যের দিকে খেয়াল করেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে মুদ্রাস্ফীতি সবচেয়ে বেশি ঘটে। কারণ , তখন পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। এতে করে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। তবে সেটা সাময়িক ভাবে।
দুর্নীতি বৃদ্ধি পেলে ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। দুর্নীতির কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
ধর্মঘট ,হরতাল ইত্যাদির কারণে পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। এতে করে সমাজে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়।
কালোবাজারির কারণে পণ্যের মজুদ বেড়ে যায়। তারা কৃত্রিমভাবে বাজারে পণ্যের যোগান কমিয়ে দেয়। এতে করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। আর পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি মানে মুদ্রাস্ফীতি।
অর্থ পাচার বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। কারণ তখন দেশ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার ফলে দেশে অর্থের সংকট দেখা দেয় ,এই সংকটের কারনে উৎপাদন ব্যহত হয়। উৎপাদন কম হলে পণ্যের যোগান কমে যায়। পণ্যের যোগান কমে গেলে ,পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। মূল্য বৃদ্ধি মানে মুদ্রাস্ফীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক,রূপালী ব্যাংক,ঢাকা ব্যাংক,প্রাইম ব্যাংক,যমুনা ব্যাংক,সিটি ব্যাংক,ব্র্যাক ব্যাংক,গ্রামীণ ব্যাংক, ব্যাংক চাকরি

খুব সুন্দর করে লিখেছেন। ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুন