পরাশক্তি কাকে বলে ? - মিঃগবেষক

পরাশক্তি কাকে বলে ?

ক্ষমতা এমন একটা জিনিস,যা চিরকাল একজনের কাছে সীমাবদ্ধ থাকেনা। একেক সময় ,একেক জনের কাছে যায়। এটা একটি প্রাকৃতিক নিয়ম। পৃথিবী যেমন করে ঘুরে, ক্ষমতাও তেমনি করে  ঘুরে। আমরা যদি অতীতের ইতিহাস দেখি, তাহলে এর একটা চিত্র পেয়ে যাবো। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন বলেছেন ," ক্ষমতা ৯০ বছরের বেশি কোন রাজবংশের কাছে থাকেনা"। আমরা যারা ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করি তারা হয়তো এই বিষয়টা সহজেই বুঝি। নিম্নে  পরাশক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

পরাশক্তি কি -যে শক্তিকে হারানো যায়না বা পরাজয় করা যায়না তাকে পরাশক্তি বলে। যদি আরেকটু বিস্তারিত ভাবে বলি তাহলো  সামরিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষমতা অর্জন করা। আরো বিস্তর ভাবে বলতে গেলে ,যারা সমগ্র পৃথিবীতে নিজেদের শক্তি সামর্থ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এবং করতে পারে। যাদের সামরিক শক্তির যথেষ্ট সক্ষমতা আছে এবং যাদের অর্থনীতির সাথে সমগ্র পৃথিবীর অর্থনীতি সম্পর্কিত তাদেরকে আমরা পরাশক্তি বলতে পারি বা তাকেই পরাশক্তি বলে। পরাশক্তি তাদের কেই বলতে পারি যাদের সামরিক শক্তি অন্যদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী,যাদের অর্থনীতি অন্যদের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী ,যাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অন্যদের চেয়ে বেশি ডিপ্লোমেটিক,যাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অন্যদেরচেয়ে বেশি উন্নত , যাদের গবেষণা অন্যদের তুলনায় এগিয়ে ,যাদের রাজনীতি উন্নত এবং যাদের সাহায্য সহযোগিতা সবার চেয়ে বেশি তারাই পরাশক্তি। যে সব দেশ সামরিক শক্তি ,অর্থনৈতিক শক্তি ,কূটনৈতিক শক্তি ,দাতা এবং গবেষণার দিক দিয়ে অপ্রতিরোধ্য তাদেরকেই পরাশক্তি বলে। 

কীভাবে পরাশক্তি হওয়া যায় ?

সামরিক শক্তি অর্জন করার মাধ্যমে একটি দেশ বা রাষ্ট্র পরাশক্তি হিসেবে  আবির্ভূত হতে পারবে। তারা এমন একটি সামরিক শক্তি অর্জন করবে যে শক্তিকে পরাজয় করা প্রায় অসম্ভব। 

সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে হলে সামরিক অস্র প্রস্তুতকারক হতে হবে। যদি কোন দেশ অস্র প্রস্তুত করতে পারে তবে সে সামরিক দিক থেকে পরাশক্তি হতে পারবে। শুধু অস্র প্রস্তুত করতে পারলেই হবেনা,সে অস্র বিশ্বমানের হতে হবে। আক্রমন করার ক্ষমতা এবং আক্রমন প্রতিহত করার ক্ষমতা উভয় থাকতে হবে। আকাশ ,নৌ এবং স্থল সব দিক দিয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। যদি কোন একদিকে দূর্বলতা থাকে তবে সে পরাশক্তি হতে পারবে না। সামরিক শক্তি এমন ভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে কোন প্রকার ফাঁকফোকর থাকতে না পারে।

অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করার মাধ্যমে একটি দেশ পরাশক্তি হতে পারবে। এখন কথা হলো কিভাবে একটি দেশ অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষমতা  অর্জন করতে পারে?

বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করার মধ্যে একটি দেশ অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। যেমন বিদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ,রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ঋণ দেয়ার মধ্যমে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। এবং আরো বিভিন্ন ভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। শ্রমশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক  মুদ্রা অর্জন করে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।  

নিজ দেশে  শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে দেশের অর্নৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বেকারত্ব দূরকরতে হবে। প্রতিটি মানুষের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। 

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কারিগরি জ্ঞান বিস্তার করতে হবে। যাতে করে বিদেশ থেকে দক্ষশ্রমিক আমদানি করতে না হয়। 

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি দেশ বা একটি রাষ্ট্র পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। যে দেশের কূটনৈতিক কৌশল  যতবেশি ডিপ্লোমেটিক সে দেশ ততবেশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে  প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরাশক্তি  হতে হলে একটি দেশকে অব্শ্যই কূটনৈতিক কৈশলের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে বা দক্ষ হতে হবে। কূটনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারলেই একটি দেশ পরাশক্তি হতে পারবে। 

বৈদেশিক সাহায্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবেই, যদি আপনি পরাশক্তি হতে চান? আপনার সাহায্য সহযোগিতা যত বেশি হবে আপনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ততবেশি প্রভাব খাটাতে পারবেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের বাৎসরিক দাতা হিসেবে যদি নিজেকে জাহির করতে পারে, তবে একটি দেশ পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারবে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে সবার আগে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সেখানে আপনাকে একটা বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। পীড়িতদের সাহায্য সহোযোগিতার মাধ্যমে সেখানে একটা শান্তির  পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। 

গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আপনি অন্য সবার থেকে এগিয়ে থাকতে পারবেন। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। 

পৃথিবীতে অনেক পরাশক্তি ছিল ,তারা সবাই ক্ষমতা হারিয়ে এখন ইতিহাস হয়ে পাঠ্য বইয়ে  স্থান করে নিয়েছে। তারই কিছু নিদর্শন তুলে ধরলাম। 

মিশর এক সময় ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর  দেশ ছিল। যখন সারা পৃথিবীর মানুষ কিছুই জানতনা ,তখন তারা রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিল। তখনকার মিশর ছিল তৎকালীন পৃথিবীর বিস্ময়। তাদের সৃষ্টি দেখলে চোখ কপালে উঠে যায়। এখন থেকে ৪ হাজার বছর পূর্বে তারা কতোটা সমৃদ্ধশালী ভাবতেই অবাক লাগে। তাদের তৈরী পিরামিড থেকে আধুনিক বিজ্ঞান মাথা নতো করে সালাম দেয়। কিভাবে সম্ভব হয়েছিল এই পিরামিড তৈরি করা। কিন্তু তা তারা করেছিল। 

তাদের ছিল সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী ,অর্থনীতির চাকা ছিল শক্ত। এক কথায় তারা ছিল ঐ সময়ের পরাশক্তি। কিন্তু তারাও আজ ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে।কোথায় আজ সেই ফারাও। নিজের জৌলস হারিয়ে এখন  ইতিহাসের পাতায় অবস্থান করছে । শুধু রয়ে গেছে তাদের স্মৃতি।

রোমান সাম্রাজ্য ইতিহাসের আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারাও তাদের সময়ে পরাশক্তি ছিল। আজ তারা কোথায় , কোথায় তাদের শৌর্য্য বীর্য্য। রোম নগর থেকে তারা সমগ্র পৃথিবী শাসন করেছিল বলা চলে। কিন্তু আজ আর তাদের সেই দিন নেই। 

প্রাচীন গ্রিস যাকে বলা হয়  গণতন্ত্রের জন্মভূমি। যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন মহান দার্শনিক সক্রেটিস ,এরিস্টটল ,পেল্টো আরো অনেকেই। বিশ্ব বিজেতা আলেকজেন্ডার দ্যা গ্রেট তার জন্মভূমি এবং দেশ এই গ্রিস। যারা ছিল এক সময়ে পরাশক্তি। সমগ্র পৃথিবী শাসন করেছিল। আজতারাও হারিয়ে গেছে। এমনি করে সবাইকেই হারিয়ে জিতে হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। 

মোঙ্গলীয় সাম্রাজ্য আজ ইতিহাসের পাতায়। যাদের ভয়ে মানুষ ঘরে থাকতে ভয় পেতো। তারাও আজ নেই। চেঙ্গিস খান মঙ্গলীয় সাম্রাজ্যকে করেছিলেন মহান। সবাইতো ভাবতে শুরু করেছিল তারা হয়তো সমগ্র পৃথিবী দখল করে নিয়ে নিবে। তারাও ছিল এক সময় পরাশক্তি। 

৭৫০ থেকে ১২৫৮ সাল পর্যন্ত আব্বাসীয় রাজবংশ ছিল পৃথিবীর একমাত্র পরাশক্তি। তাঁদের মতো এতো দীর্ঘ সময় কেউ পরাশক্তি হিসেবে রাজত্য করতে পারেনি। আটলান্টিকের পূর্ব পাড় থেকে শুরু করে মধ্যএশিয়া পর্যন্ত তারা সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে তারাও আজ হারিয়ে গেছে। 

ফার্সি সাম্রাজ্য ,অটোমান সাম্রাজ্য ,মোঘল সাম্রাজ্য ,ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, ফরাসি সাম্রাজ্য,জার্মান সাম্রাজ্য  এবং স্পেনীয় পর্তুগিজ সাম্রাজ্য কিছুই নেই। 

এখানে আমি কেন অতীতের পরাশক্তি গুলির আলোচনা করলাম জানেন ? কারণ কোন কিছুই কারো কাছে চিরকাল থাকেনা শুধু এইটুকু বুঝানোর জন্য। সব কিছুর ই একটা নিদির্ষ্ট  চুড়া  বা সময় সীমা থাকে। এই সময় সীমা কেউ অতিক্রম করতে পারবে না।  আর যারা একবার অর্জন করেছে এবং তা হারিয়ে ফেলেছে ,তারা আর কোন দিন সেই সুযোগ আর পাবেন। আজকে যারা পরাশক্তি এক সময় তারাও অতীতের পরাশক্তি গুলির মতো হারিয়ে যাবে। কেন হারিয়ে যাবে  তা পরে আলোচনা করবো। 

ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার কারণ 

দুর্বল শাসকের শাসন জনিত কারণে একটি দেশ হারিয়ে যেতে পারে। কোন শাসকের যদি  ক্যারিশমাটিক শাসন পদ্ধতি না থাকে তাহলে সে দেশ কিভাবে টিকে থাকবে। যদি কোন শাসক শাসন কার্য ফেলে আমুদফুর্তিতে দিনযাপন করে সে দেশ শুধু সময়ের দাবি রাখে ছিটকে পড়া থেকে। দূর্বল শাসনের কারনে অভ্যান্তরিন কোন্দল দেখা দিতে পারে। কিন্তু দুর্বল শাসক কখনো তা সামাল দিয়ে পারবেনা। শাসকের অব্যশই দীৰ্চিত্যের অধিকারী হতে হবে। স্খল প্রকার সমস্যার মোকাবেলা করার মতো সাহস ও ক্ষমতা দুটাই থাকতে হবে। 

সামরিক শক্তির দুর্বলতার কারনে একটি দেশ চিরকালের জন্য হারিয়ে যেতে পারে। পৃথিবীতে এমন শত শত নজির আছে। সামরিক শক্তির দূর্বলতার কারণে অন্য দেশের আক্রমন প্রতিহত করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন ইব্রাহিম লোদীকে পানি পথের প্রথম যুদ্ধে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে শক্তিশালী মোগলরা ভারত দখল করেছিল। আবার যেমন জার্মানির সামরিক শক্তির দূর্বলতার কারণে তারা প্রথম যুদ্ধে মিত্রশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল। সুতরাং দেখা যাচ্ছে সামরিক শক্তির দূর্বলতাই একটি দেশর টিকে থাকা নির্ভর করছে। 

প্রাকৃতিক নিয়ম ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন বলেছেন কোন রাজবংশই শৌর্য-বীর্য নিয়ে ৯০ বছরের বেশি শাসন কার্য পরিচালনা করতে পারেনা। তার  মানে প্রাকৃতিক নিয়মেই মানুষ তার জৌলস হারাবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই আমি বলতে চাই প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষ ধ্বংস বা ক্ষমতা হারাবে। 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর কারণে অনেক সময় ক্ষমতা হারিয়ে জিতে পারে। আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো পৃথিবীর অনেক সভ্যতা হারিয়ে গেছে ভিবিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পরে। তাই আমি বলতে চাই ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রাকৃতিক দূর্যোগ। 

অর্থ সংকট আরো একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ন কারন যেকোন রাজবংশ  বা দেশের ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার জন্য। 

যুদ্ধে লিপ্ত থাকা আরো একটি অন্যতম কারন ,অযথা সারা বছর যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে থাকতে সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পরে এবং অর্থ সংকট দেখা দে এতে করে অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়ে পরে। 

যোগ উপযোগী সিদ্ধান্ত ঘাটতির কারণে যেকোনো সময় যেকোন দেশের ক্ষমতা হারিয়েযেতে পারে। যেমন মোগল সম্রাটদের কথা এখানেউল্ল্যেখ করা যেতে পারে। তারা যদি যোগউপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারতো তাইলে ব্রিটিশরা কখনো এদেশে শাসন করতে পারতোনা। তাই আমি বলতে চাই যোগউপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ক্ষমতা হারিয়ে যাবে। 

অন্য দেশের আক্রমণ আরো একটি কারণ। একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে অন্য একটি শক্তি আক্রমন করার মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে পারে। আব্বাসীয় বংশকে হালাকুখান মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। ৫শত বছরের প্রতিষ্ঠিত একটি রাজবংশকে। তাই তাই বলা জিতে পারে ক্ষমতা হারানোর অন্য একটি বিশেষ কারণ হলো অন্যদেশের আক্রমন। 

কূটনৈতিক ব্যর্থতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ ক্ষমতা হস্তচ্যুত হওয়ার জন্য। যদি একটি দেশের কূটনৈতিক ক্ষমতা সে ভাবে কাজ করতে না পারে তবে ক্ষমতা ফস্কে যাবে। যদি আব্বাসীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকতো বা কৌশলী হতো তাহলে অতো সহজে হালাকুখান ধ্বংস করতে পারতেন না। 

অত্যাচার / জুলুম  এটিও একটি অন্যতম কারণ। কেননা যদি কোন ক্ষমতা বা দেশ কারো উপর অত্যাচার / জুলুম চালায় তবেও তারা ক্ষমতা হারাতে পারে। যেমন পাকিস্তানী শাসন এদেশ থেকে গুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো তারা আমাদের  দেশের মানুষকে শাসনের নামে অত্যাচার / জুলুম করেছিল। তাই এদেশের মানুষ নিজের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। অর্থাৎ জুলুম অত্যাচার করলেও ক্ষমতা হারিয়ে যায়। 

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা আরো একটি অন্যতম কারণ। কেননা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা থাকলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলা যায়না। যার ঘরের রাজনীতির ঠিক থাকেনা সে কিভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব খাটাবে। 

আপাতত আগামী ১০ বছর পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই থাকছে পরাশক্তি হিসাবে। তবে বলা মুশকিল পরের ১০ বছর থেকে। পৃথিবীতে শক্তির একটা সমতা থাকা  দরকার এবং সেটা তৈরী হচ্ছে এবং সেটা বেশি দূরে নয়। আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যেই তা হতে পারে যা আমি এখনি দেখতে পাচ্ছি। 

আগে থেকেই কয়েকটা  পরাশক্তি ছিল। ব্রিটেন ,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,জার্মান ,সোভিয়েত উনিয়ন ,ফ্রান্স এবং ইতালি। 

তাই আমি মনে করি ,ক্ষমতার একটা ভারসাম্য তৈরী হওয়া দরকার। যাতে করে কেউ জোর করে কোন কিছু কারো উপর চাপিয়ে দিতে না পারে। 

আমি যাদের মধ্যে  আগামী ১০ বছরে পরাশক্তি হয়ে ওঠা দেখছি বা যারা পরাশক্তি হয়ে উঠবে ,তারা হলো, চীন ,ভারত ,তুর্কি ,ইরান,ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো এবং ব্রাজিল।

এর মধ্যে কিছু হারিয়ে যেতে  পারে। তবে ঠিক করা হারিয়ে যাবে তা বলা মুশকিল। 

আমি এখানে যাদের নাম নিয়েছি আগামীর পরাশক্তি হিসেবে। এর পিছনে আমার যে যুক্তি তা হলো ,তাদের অর্থনৈতিক জাগরণ ,প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ,বিপুল জনসংখ্যা , সামরিক শক্তি অর্জনের ইচ্ছা , বৈরী প্রতিবেশী , আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজেদের সম্মান বৃদ্ধির চেষ্টা , নিজেদের সর্বভৌমত্ত রক্ষাকরা এবং অস্র বাণিজ্য  ইত্যাদি বিষয় গুলিকে আমি আমার গবেষণায় প্রাধান্য দিয়েছি।

অবশেষে বলতে পারি ,যারাই ক্ষমতাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে বা  অন্যের উপর দাদাগিরি দেখিয়েছে তাদের পতন হয়েছে। তাই ক্ষমতা থাকলেই দাদাগিরি  করতে নেই। দাদাগিরি করলে ক্ষমতা  নিজ থেকেই পল্টিমেরে অন্যের কাছে চলে যাবে।এটা ক্ষমতার একটা প্রাকৃতিক ধর্ম।  

 চীন ইতিমধ্যে পরাশক্তি হিসেবে নিজের সক্ষমতা বা পরিচয় দেখিয়ে দিয়েছে। চীন যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে তাল মিলিয়ে কেউ চলতে পারছেনা। দিনকে দিন চীন নতুন নতুন সব অর্জন করছে। তারা যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, তাদের আশেপাশে কেউ আছে বলে আমার মনে হয়না। তারা তাদের সেই অর্থ বসিয়ে না রেখে তা আবার বিভিন্ন দেশে স্বল্প হারে  ঋণ দিচ্ছে এবং বিনিয়োগ করছে। 

চীন বিভিন্ন দেশের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতি নিয়ত বিকশিত করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ছাড়া সমগ্র এশিয়াতে তাদের কোন শত্রু আছে বলে আমার মনে হয়না। সেই সাথে তারা কারো সাথে যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ছেনা। যদিও আমরা দেখি ভারতের সাথে চীনের মাঝে মধ্যে ঝটিকা যুদ্ধ দেখা যায়। এর কারন হলো চীন নিজেদের সক্ষমতার পরীক্ষা করছে। একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন ,তারা কিন্তু ভারী অস্র ব্যবহার করছেন না  এটা  তাদের একটা কূটনৈতিক কৌশল বলা চলে। 

পরাশক্তি হতে হলে তার একটা শক্তপোক্ত শত্রু থাকতে হবে। তা নাহলে তারা কখনো পরাশক্তি হিসেবে  আবির্ভুত হতে পারবেনা। আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো ,প্রত্যেকটা পরাশক্তির ই একটা শক্তপোক্ত বলবান শত্রু ছিল বা আছে। চীনের ক্ষেত্রেও ঠিক একটা  শক্তপোক্ত বলবান প্রতিদ্বন্দ্বী আছে। আমি তার নাম বললাম না এখানে। 

চীন এশিয়া মহাদেশ অতিক্রম করে আফ্রিকাতে নিজেদের বিনিয়োক বৃদ্ধি করছে। সেখানেও তারা সফলতা লাভ করবে। এটাও তাদের একটা কূটনৈতিক কৌশল বলা চলে। তারা এমন ভাবে তাদের বাণিজ্য বিস্তার করছে , আগামী পৃথিবী তাদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। 

অনেক দেশ তাদের সাথে মিত্রতা তৈরী করছে এবং তারাও। যেমন পাকিস্তান ,ইরান, মায়ানমার,উত্তর কোরিয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো আছে অনেক দেশ। যাদের নাম এখানে বলছিনা। চায়না বিশেষ করে মুসলিম দেশ গুলির সাথে তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করে চলছে। এটা তাদের ভবিষৎ মহা পরিকল্পনা বলা চলে। তারা যদি সকল মুসলিম দেশ গুলির সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারে তাহলে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি আগামী ১০ বছরের মধ্যে চীন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। চীন বিশেষ করে ঐ সব দেশ গুলির সাথে সম্পর্ক তৈরী করছে যাদের সাথে আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়া আছে। যেমন আমেরিকার সাথে ইরানের সম্পর্ক খারাপ ঠিক সেই স্থানটা পূরণ করছে চীন। আবার ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক নাই বললেই চলে সেখানে চীন পাকিস্তানের জানেজিগার দোস্ত।  

প্রযুক্তি খাতে চীন অঢেল বিনিয়োগ করছে। তাদের দেশে ফ্রিতে পড়াশোনার সুযোগ আছে। তাদের প্রযুক্তি এতো বেশি সস্তা যা কেউ চাইলেই সেবা নিতে পারে। তারা দরিদ্র দেশ গুলিতে তাদের প্রযুক্তি বিস্তার করছে। সেখানে তারা সস্তায় সেবা দিচ্ছে। এতে করে ঐ সব দেশগুলি চীনের প্রতি আগ্রহ হচ্ছে। চীন সেবা দিচ্ছে, বন্ধু পাচ্ছে ,টাকা কামাচ্ছে ,সব দিক দিয়ে তারা একটা ভালো অবস্থানে আছে।

কোন মন্তব্য নেই

duncan1890 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.