বিস্ময়কর এক গ্রন্থ আল কুরআন
আল কুরআন একটি আসমানী কিতাব। এ কিতাব শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর নাজিল হয়। এটি একটি ঐশী বাণী সংবলিত কিতাব ( বই ) যা আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। এ কিতাবের রচয়িতা সয়ং আল্লাহ ( জিনি সব কিছুর স্রষ্টা ) . হেরা গুহায় এ কিতাব হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর প্রথম নাজিল হয় ( নিয়ে আসে হজরত জিব্রাইল আ ) . এর প্রথম আদেশ বা বাণী ছিল " পড় তোমার সৃষ্টি কর্তার নামে" . তার পর দীর্ঘ্য ২৩ বছরে এ কিতাব টি নাজিল হয়। এ কিতাবে সর্ব মোট সূরা ১১৪ টি ,মনজিল ৭ , সেজদাহ ১৪ , আয়াত ৬৬৬৬ টি। কোন কোন বর্ণনাতে ৬২৩৬ আয়াত। তবে এটাই সহীহ মত।
আল কুরআন এমন একটি কিতাব যার কোন ভুল নাই। এ কিতাবে মানব জাতির হেদায়াত সহ আরো অনেক বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। মৃত্যুর পরবর্তী জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহ নিজে তার পরিচয় তুলে ধরেছেন মানুষের কাছে। তিনি ছাড়া আর কোন হুকুম দাতা নেই।
এটি এমন একটি কিতাব যে কিতাবে মানবের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এ কিতাবে কোন প্রকার বৈষম্য নেই , কে নারী কে পুরুষ সকলের সমান অধিকার দেয়া হয়েছে।
এ কিতাব ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে সমাদৃত। এখানে অনেক জাতির ইতিহাস ব্যাক্ত করা হয়েছে। যেমন ,আদ,সামূদ,ইরাম আরো অনেক জাতির ইতিহাস সহ আমরা এখন থেকে জানতে পারি।
আবার এ কিতাব বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। যেমন রাত ও দিনের কথা বলা হয়েছে, সৌর মন্ডলের কথা বলা হয়েছে, পানি চক্রের কথা বলা হয়েছে, মায়ের পেটে শিশুর জীবন সম্পর্কে বলা হয়েছে এভাবে আরো অনেক বৈজ্ঞানিক আয়াত আমার দেখতে পাই।
এছাড়া ও এ কিতাবে সাহিত্য অলঙ্কার লক্ষ করা যায়। এ কিতাবের ছন্দ অতুলনীয়। সমসাময়িক কোন সাহিত্য কর্মে এতো সুন্দর শব্দালংকার দেখা যায়না। আরবি ব্যকরনের মূল উৎস হল এই আল কুরআন।
আল কুরআন হল একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। অর্থাৎ এই কিতাবে সকল কিছুর সমাধান পাওয়া সম্ভব। জীবনের সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেকটি বিষয়ের সুন্দর সমাধান আছে এ গ্রন্থে। রাজনৈতিক ,সামাজিক,পারিবারিক,ধর্মীয় এমন কোন বিষয় নেই যা এই কিতাবে উল্লেখ নেই। তাই এ কিতাব কে সকল সম্মসার সমাধান বলা হয়ে থাকে।
যারা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চান তাদের জন্য এ কিতাব একটি প্রামাণ্য কিতাব হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের জন্য রয়েছে অনেক টিপস (আকর) ।
আল কুরআন বিভিন্ন ভাবে নাজিল হয়েছে ,আসমান থেকে সোজা হেরা গুহায় হজরত মুহাম্মদ (সা ) এর উপর নাজিল হয় । নাজিল হওয়ার বিবরণ যদি বলি তাহলে এভাবে বলতে পারি। হজরত জিব্রাইল (আ) কখনো নিজের আকৃতিতে ,কখনো মানব আকৃতিতে এসেছেন, অনেক সময় আল কুরআন ঘন্টা ধ্বনির মত আওয়াজ করে নাজিল হয়েছে ,অনেক সময় ঘুমের মাধ্যমে নাজিল হয়েছে।
আল কুরআন হল সর্ব শেষ আসমানী কিতাব। যা মানব জাতির জন্য চুড়ান্ত করে দিয়েছে।
এটি কোন সাধারণ কিতাব নয় ,এটি মানব জাতির জন্য হেদায়াত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। এটি আমাদের ( মুসলিমদের ) সংবিধান। এই কিতাবের অনুসরন অনুকরণ ই একমাত্র মুক্তির পথ।
প্রত্যেকটা মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হিসেবে এ কিতাব অবতীর্ন হয়েছে। এ কিতাবের বাহিরে কেউ যদি জীবন যাপন করে তবে সে কখনো মুসলিম হতে পারেনা এবং সে নাজাতের আশা করতে পারবেনা।
অনেকেই এ কিতাবের ভুল ধরার চেষ্টা করেছে, আজ পর্যন্ত কেউ এর একটি শব্দ ও ভুল প্রমাণিত করতে পারেনি। অনেকেই আবার এ কিতাব সম্পর্কের বলে থাকে এ কিতাব ইসলামের নবী নিজে রচনা করেছে। কিন্তু এ কিতাব কখনোই কোন মানব রচনা করেনি এটি সয়ং আল্লাহ নিজেই রচনা করেছেন। এ কিতাব যদি কোন মানব রচনা করত তাহলে এতে অনেক ভুল থাকত। কিন্তু মজার ব্যপার হল আজ পর্যন্ত কেউ এর ভুল ধরতে পারেনি আর কেউ পারবে না। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় এ কিতাব কোন মানব রচনা করেনি।

কোন মন্তব্য নেই