উসমানীয় সুলতান আব্দুল হামিদ ২য় প্যান-ইসলামিজম টার্ম পেপার
গৌরচন্দ্রিকা
মানবজাতির ইতিহাস কায়েক হাজার বছরের ইতিহাস। এই অল্প কিছু সময়ের মধ্যে পৃথিবীকে অগণিত শাসক শাসন করেছেন। কেউ ছিলেন জন দরদি আবার কেউ ছিলেন অত্যাচারী।
প্রাচীন মিশরিয় সভ্যতা থেকে শুরু হয়েছে প্রকৃত শাসন ব্যবস্থা। হাজার বছরের শাসন ইতিহাসে অনেকের নাম ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখা আছে আবার কালের আবর্তনে অনেকের নাম হারিয়ে গেছে ইতিহাসের পাতা থেকে।
পৃথিবীর ইতিহাসে যাদের নাম সোনার হরফে লেখা তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, রামেসিস,ক্লিওপেট্রা,জুলিয়াস সিজার,নেবুচাদনেজার,সাইরাস,আলেকজান্ডার,ওমর,চেঙ্গিস খান, আকবর সহ আরো অসংখ্য রাজা বাদশা। তাঁরা তাঁদের কর্মের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় চির অম্লান।
৬৩২ সালে ইসলামি খিলাফত শুরু হয়। খিলফতে আসতে থাকে নতুন নতুন শাসক। উমাইয়া শাসন, আব্বাসিয় শাসন, মিশরে ফাতেমিয় শাসন ইত্যাদি। ক্ষমতা পালা বদলের পালায় এক সময় আসে তুর্কী উসমানীয় শাসন। উসমানীয় শাসন ব্যবস্থায় একপর্যায়ে ক্ষমতায় আসেন আব্দুল হামিদ ২য়।
উসমানীয় খিলাফতের সুলতানগনের মধ্যে অন্যতম হলেন ২য় আব্দুল হামিদ। পূর্ব পুরুষদের মতোই তিনি নিজের কর্মের মাধ্যমে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বরণীয় করে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর কর্মের মধ্যে অন্যতম হলো তানজিমাত ও প্যান-ইসলামবাদ। ইসলামের ইতিহাসে উসমানীয় খিলাফত বিশেষ স্থান দখল করে আছে। উসমানীয় খলিফারা মুলত সুন্নি মতাবলম্বী।
আজকে উসমানীয় খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় সম্পর্কে আলোচনা করব। এই আলোচনায় তাঁর ব্যর্থতা এবং সফলতা উঠে আসবে আশা করি।
গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
গবেষণা কী? - গবেষণা হলো কোন কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। গবেষণার মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে কোন ঘটনার কী কারণ। কিভাবে ঘটল,কেন ঘটল,কোথায় ঘটল ইত্যাদি। সকল প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় গবেষণার মাধ্যমে।
গবেষণার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। গবেষণা করলে সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয়। যে বিষয়ের উপর গবেষণা করা হয়, তার সম্পর্কে বিস্তারিত সঠিক তথ্য জানা যায়।
এক কথায় বলতে গবেষণা অর্থ খোঁজ করা, অনুসন্ধান করা, অন্বেষণ করা বা নতুন কিছু বেড় করাকেই গবেষণা তবে।
গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জ্ঞানের দরজা উন্মোচিত হয়। কোন একটা বিষয়ের বিভিন্ন দিক বিস্তারিত ভাবে সকলের সামনে বেড়িয়ে আসে।
গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য - গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সঠিক তথ্য ও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা। আমি যেই বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছি তার মুল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো সঠিন তথ্যটা সামনে নিয়ে আসা। ২য় আব্দুল হামিদের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু সঠিক গবেষণার না থাকার কারণে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। আমি এই গবেষণার মাধ্যমে এই ধোঁয়াশা দূর করার চেষ্টা করব।
গবেষণার লক্ষ্য
বা
উদ্দেশ্য হলো
সঠিক
ইতিহাস
টুকু
খুঁজে
বের
করা।
একেক
জন
একেক
লক্ষ্য
বা
উদ্দেশ্য নিয়ে
গবেষণা
করে
থাকে।
আমি
যেই
লক্ষ্য
বা
উদ্দেশ্য নিয়ে
করছি
তাহলো
আব্দুল
হামিদের প্যান--ইসলামবাদ ও তাঁর কৃতিত্ব সম্পর্ক। তিনি
কাজ
করত
গিয়ে
কোথায়
ব্যর্থ
হয়েছেন
কোথায়
সফল
হয়েছেন
তা
সম্পর্কে গবেষণা
করেছি।
আমার
গবেষণার মুল
লক্ষ্য
একটাই
প্রচুর
পরিমন
তথ্য
সংগ্রহ
করা।
আমরা
খলিফা
আব্দুল
হামিদ
সম্পর্কে বিস্তারিত জানিনা। অথচ
তিনি
মুসলিম
শাসকদের মধ্যে
হাতে
গোনা
কয়েকজনের মধ্যে
একজন।
মুসলমানদের শক্তি
সামর্থ
এবং
মর্যাদায় বিশেষ
অবদান
রেখেছেন।
গবেষণা পদ্ধতি ও বিশ্লেষণ
গবেষণার শুরুতেই আমি আমার কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করে নেই। তারপর সে অনুযায়ী কাজ করতে থাকি।
আমার প্রথম কাজ ছিল উক্ত বিষয় টা মাথার ভিতর ভালো ভাবে গেঁথে ফেলা। এরপর প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করা। এরপর দেশ বিদেশের কিছু পত্রিকা সংগ্রহ করলাম। যেখানে ১৯শতকের ইতিহাস লেখা। তার সাথে ভৌগোলিক বিষয়ের উপর কিছুটা আলোকপাত করলাম। তারপর অনলাইনে মোটামুটি অনেকগুলি আর্টিকেল পড়লাম। ইউটিউবে কিছু দেশ বিদেশি গবেষকদের লেকচার শুনলাম।
উক্ত গবেষণায় আমার একাডেমিক পড়াশোনা আমাকে সাহায্য করেছে।সেই সাথে বিভিন্ন বই ,বিভিন্ন লেকচার ,অনেক ইতিহাসবিদদের সাথে আলাপ আলোচনা ,অনলাইনে অগণিত অনুচ্ছেদ পড়ে,বিভিন্ন লেখকের অনলাইন বই পড়ে ,বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা পড়ে সব কিছু কে নিজের ভিতর ধারণ করে তারপর নিজের মত করে নিজের ভাষায় , আমি আমার গবেষণা পত্র তৈরী করেছি। যেহেতু এটা আমার একাডেমিক গবেষণা সেহেতু আমার অতীতের ডিগ্রি আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছে । যেহেতু এটা আমার প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সেহেতু এখানে আমি আমার বেঁধে দেয়া সীমা অতিক্রম করতে পারিনি। আমি ইসলামের ইতিহাসের উপর অনার্স করেছি এবং উক্ত বিষয়ের উপর মাস্টার ডিগ্রি নেয়ার পথে। এই গবেষণা আমাকে মাস্টার ডিগ্রি নিতে সহায়তা করবে।
যেহেতু আমি অনার্স করেছি ইসলামের ইতিহাসের উপরে সেহেতু উসমানীয় খিলাফতের ইতিহাস আমার মোটামুটি জানা আছে। ইসলামের ইতিহাসের উপরে মাস্টার্স চলছে। সেহেতু আমি উক্ত বিষয়ের ইতিহাস আমার পরিচিত। প্রাক ইসলামি ইতিহাস থেকে শুরু করে আজ অবধ মোটামুটি যেসব ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে সেসব ইতিহাস মোটামুটি সব পড়াশোনা আছে। যার কারণে উক্ত বিষয় বিশ্লেষণ করতে আমার তেমন বেগ পেতে হয়নি। আমি আমার জীবনে কয়েক জন শিক্ষক পেয়েছি যাঁদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আ খ ম ড. খালিদ হোসাইন স্যার। চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের কিছু সিনিয়র ভাইদের সংস্পর্শ পেয়েছি। তাঁদের কাছ থেকে কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শুনেছি। আমি বিভিন্ন সাহিত্য, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের উপর অনেক সেমিনারে উপস্থিত ছিলাম। ছোট বয়স থেকেই ইতিহাসের উপর আমার কেমন যেন একটা আত্নার টান ছিল। আমাকে ইতিহাস যেভাবে বিমোহিত করে অন্য বিষয় ঠিক সেভাবে আমাকে আকর্ষণ করতে পারেনা। আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীতে ইতিহাসই একমাত্র বিষয় যার পরিধি সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত এবং সমৃদ্ধ। পৃথিবী সম্পর্কে জানতে হলে ইতিহাস ই একমাত্র ভরসা। যেদিন থেকে মানুষ লিখতে শুরু করে সেদিন থেকে ইতিহাস রচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস কেবল এটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তার পরিধি আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত। ইতিহাস আমাকে বিনোদন দেয় যা অন্য কোন বিষয় থেকে সেভাবে পাইনা।
আমার মনে হয় কোন কিছু সম্পর্কে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বা দক্ষতা আমার ভিতর তৈরি হয়েছে। কোন বিষয় সম্পর্কে নিজস্ব মত দেয়ার মত ব্যাক্তিত্ব আমার আছে।
জন্ম - তুর্কী সুলতান ২য় আব্দুল হামিদ ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে তুরস্কে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ১ম আবদুল মজিদ এবং মায়ের নাম তিরমুজগান কাদিন। পালিত মায়ের নাম রাহিমে পেরেস্ত কাদিন।
কেউ কখনো ভাবতেই পারেননি তিনি ক্ষমতায় আসতে পারেন সম্ভবত তিনিও ভাবেননি যে তিনি কখনো খলিফা হবেন। কারণ পিতার জীবদ্দশায় প্রায় ১৮ বছর তিনি ছিলেন মসনদের তৃতীয় উত্তরাধিকারী। কিন্তু ১৮৬১ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে পিতা সুলতান আব্দুল মাজিদ মৃত্যুবরণ করলে খলিফা হন ৩১ বছর বয়সি চাচা আব্দুল আজিজ। কিন্তু ১৮৭৬ সালে ৪৬ বছর বয়সে তিনিও নিহত হন। যদিও সেটাকে সেসময় আত্মহত্যা বলে চালানো হয়েছিল। এরপর মসনদে বসেন তারই বড় ভাই ৫ম মুরাদ। যিনি তার থেকে দুই বছরের বড় ছিলেন। চাচাকে হত্যাকারীদের সঙ্গে ৫ম মুরাদেরও যোগসূত্র ছিল। এছাড়াও তিনি ছিলেন ইহুদিদের বিশ্ব সংগঠন ফ্রি মিশনের সদস্য। মূলত ৫ম মুরাদকে ক্ষমতায় আনা হয়েছিল একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে। তা হল কানুনে আসাসি বা বুনিয়াদি সংবিধান ঘোষণার মাধ্যমে খেলাফতকে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত করা। যাতে খলিফা হবে একটি অলংকারিক পদ। নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে পাশা ও ওযীরদের হাতে। কিন্তু মসনদে আরোহণের পরপরই তার মস্তিষ্ক বিকৃতির লক্ষণ ফুটে উঠে। সবরকমের প্রচেষ্টা ও চিকিৎসা সত্তে¡ও যখন তিনি পুরোপুরিভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ডাক আসে ৩৪ বছর বয়সী যুবরাজ আব্দুল হামিদের। মসনদে খিলাফতের চারপাশে তখনইহুদিবাদী ফ্রি-মিশন ও নব্য তুর্কিদের একক প্রাধান্য। বাধ্য হয়ে সেই কুচক্রীদের শর্ত মেনেই তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খেলাফত বিরোধীচক্রের মূল হোতা ইংরেজদের এজেন্ট মিদহাত পাশাকে প্রধান উজির বানাতে বাধ্য হন। তাদের শর্তমতে তিনি কানুনে আসাসী বা বুনিয়ানি সংবিধান ঘোষণা করেন। যার ফলে খিলাফত ব্যবস্থা তখন মূলত একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়।
তিনি ছিলেন সুলতান আব্দুল মাজিদের ত্রিশজন সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ও ৩৪তম উসমানি সুলতান ।দশ বছর বয়সে মাকে হারালে তিনি সৎ মায়ের কাছে লালিত পালিত হন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি অত্যন্ত স্নেহ মমতায় তাকে লালন পালন করেন। সৎ মাতার ধর্মীয় জীবনাচার ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ অবস্থান তার উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। খলিফা হওয়ার পর তিনি তাকে রাজমাতা ঘোষণা করেন। ছোট থেকেই তিনি অত্যন্ত গম্ভীর ও স্পর্শকাতর প্রকৃতির বলে পরিচিত ছিলেন।
শিক্ষা জীবন - রাজপ্রাসাদেই একদল অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর হাতে তার শিক্ষাদীক্ষা চলতে থাকে। তাদের নিকট তিনি আরবি ফারসি ও ইতিহাসের পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি সাহিত্যও অধ্যয়ন করেন। এসময় তিনি অশ্বারোহণ, তলোয়ার চালনা ও অন্যান্য অস্ত্রচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন।
চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য - তিনি কথা অনেক কম বলতেন। কিন্তু অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন ও চারপাশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। শৈশব থেকেই নিয়মিত পত্রিকা ও বিশ্বরাজনীতির খবরাখবর রাখা তার অভ্যাস ছিল। তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে খেলাফতে উসমানিয়ার অবস্থান বুঝার চেষ্টা করতেন। শৈশব থেকেই আরেকটি বৈশিষ্ট্য তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে রেখেছিল। তা হলো তার সুপরিমিত অর্থনৈতিক বোধ। তিনি অপচয় একদম পছন্দ করতেন না। সে সময়ে তিনি ছিলেন খেলাফতে ওসমানিয়ার সবচেয়ে ধনী যুবরাজ। তার এই অর্থব্যবস্থাপনাগুণ খেলাফতে ওসমানিয়ার জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর প্রমাণিত হয়েছিল। খলিফা হওয়ার পর নিজ অর্থব্যয়ে পুরো সাম্রাজ্যে টেলিগ্রাফলাইন স্থাপন করেন।
বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি ভালোবাসা
মসজিদ
আল
আকসা
পরিচিতি -ইহুদি
,খ্রিস্টান এবং
মুসলিম
সকল
ধর্মের
লোকের
কাছে
অতীব
গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
এটা
মুসলমানদের নিকট
২য়
পবিত্র
স্থান।
প্রথম
পবিত্র
স্থান
হলো
মসজিদ
আল
হারাম
মক্কায়। মুসলমানদের প্রথম
কেবল
ছিল
এই
আল
আকসা
মসজিদ।
হজরত
মুহাম্মদ (সাঃ)
এখান
থেকেই
উর্ধ
আকাশে
আল্লাহর দাওয়াতে ভ্রমনে
গিয়েছিলেন। খলিফা
( ওমর
রাঃ
) আমলে
এই
মসজিদ
মুসলমানদের দখলে
আসে।
বর্তমানে এটি
ইহুদিদের দখলে
আছে।
বর্তমান ইহুদি
রাষ্ট্রের নাম
ইসরায়েল। তারা
এই
পবিত্র
স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে
নিয়েছে।
আল
আকসা
মসজিদ
শব্দের
অর্থ
দুরবর্তী মসজিদ। ইসলামের নবী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)
(আব্রাহাম) জেরুসালেমেও একটি
উপাসনার স্থান
প্রতিষ্ঠা করছিলেন। কাবা নির্মাণের চল্লিশ বছর পর
(খ্রিষ্টপূর্ব ২১৭০)
তিনি
এটিকে
আরও
সম্প্রসারণ করেন
যা
পরবর্তীকালে "বাইতুল মুকাদ্দাস" নামে পরিচিত
হয়।মসজিদে হারামের তুলনায় দূরতম
উপাসনার স্থান
হওয়ায়, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)
এটিকে
"মাসজিদুল আকসা’
বলেও
উল্লেখ
করতেন।তার পুত্র ইসহাক (আলাইহিস সালাম) ও এখানে ইবাদত
করতেন
তবে
তিনিও
তার
পিতার
মত
কাবাতে
হজ
করতে
গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ইসহাক
(আলাইহিস সালাম)
এর
দ্বিতীয় পুত্র
ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)
এই
অঞ্চলের এক
আল্লাহতে বিশ্বাসীদের জন্য
উপাসনার স্থান
হিসাবে
এটিকে
বর্ধিত
করেছিলেন। পরবর্তিতে সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)
এই
উপাসনার স্থানটির স্থাপত্য (সেকেন্ড টেম্পল)
তৈরি
ও
সৌন্দর্য বৃদ্ধি
করেন
(খ্রিষ্টপূর্ব ১০০৪)
।
মুসলমানরা বিশ্বাস করে
এই
কাজে
তিনি
জ্বীনদেরকে নিয়োগ
করেছিলেন। এবং
আল্লাহ
তায়ালা "গলিত তামার ঝরণা" প্রবাহিত করেছিলেন। এরপর ব্যবিলনের সম্রাট
দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)
এর
তৈরি
স্থাপত্যগুলি ধ্বংস
করেন
(খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৬)।
বর্তমান স্থাপনাটি উমাইয়া যুগের।
দ্বিতীয় খলিফা
উমর
ইবনুল
খাত্তাব প্রথম
এখানে
একটি
মসজিদ
নির্মাণ করেছিলেন। কয়েকজন মুসলিম
পণ্ডিত
যেমন
মুজিরউদ্দিন আল-উলাইমি, জালালউদ্দিন সুয়ুতি ও
শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি বলেন যে খলিফা
আবদুল
মালিক
৬৯০
খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ
পুনর্নির্মাণ ও
সম্প্রসারণ করেন।
সেই
সাথে
তিনি
কুব্বাত আস
সাখরা
নির্মাণ করেন।
আবদুল
মালিক
মসজিদের কেন্দ্রীয় অক্ষ
প্রায়
৪০
মিটার
(১৩০
ফু)
পশ্চিমে সরিয়ে
আনেন
যা
হারাম
আল
শরিফ
নিয়ে
তার
সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ
ছিল।
পুরনো
অক্ষ
একটি
মিহরাব
দ্বারা
চিহ্নিত করা
হয়
যা
"উমরের
মিহরাব"
বলে
পরিচিত। কুব্বাত আস
সাখরার
উপর
গুরুত্ব দিয়ে
আবদুল
মালিক
তার
স্থপতিদের দ্বারা
নতুন
মসজিদকে সাখরার
সাথে
এক
সারিতে
আনেন।
আবদুল
মালিকের ছেলে
প্রথম
আল
ওয়ালিদ মসজিদ
পুনর্নির্মাণ করেন
এবং
দামেস্কের কর্মরা
এতে
কাজ
করে।
অধিকাংশ পণ্ডিতদের একমত
যে
মসজিদের পুনর্নির্মাণ আবদুল
মালিকের সময়
শুরু
হয়
এবং
আল
ওয়ালিদের সময়
তা
শেষ
হয়।
৭১৩-১৪ খ্রিষ্টাব্দে কয়েকটি ভূমিকম্পে জেরুসালেমের ক্ষতি
হয়
এবং
মসজিদের পূর্ব
অংশ
ধ্বংস
হয়।
এ
কারণে
আল-ওয়ালিদের শাসনামলে পুনর্নির্মাণের
প্রয়োজন হয়ে
পড়ে।
১৯০১ সালে ইহুদি মিজ্ররারো কারাসো নামের একজন ব্যাংকার তাঁর দু’জন সহযোগীসহ ইস্তাম্বুলে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের রাজপ্রাসাদে আসেন এবং প্রতিনিধির মাধ্যমে সুলতানের কাছে নিম্নোক্ত প্রস্তাব পেশ করেন—প্রথমত, উসমানীয় খিলাফতের সব ঋণ শোধ করে দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, উসমানীয় খিলাফতের জন্য শক্তিশালী নৌঘাঁটি তৈরি করে দেওয়া হবে। ও শেষ প্রস্তাব ছিল, তুরস্কের উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ স্বর্ণমুদ্রা (Leera) বিনাসুদে প্রদান করা হবে। এই তিন প্রস্তাবের বিনিময়স্বরূপ তারা সুলতানের কাছে যা চেয়েছিলো তা হলো— ইহুদিদের যেকোনো সময় ফিলিস্তিন সফরের অনুমতি দিতে হবে, পবিত্রস্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে সেখানে অনির্ধারিত সময়ের জন্য অবস্থানের সুযোগ দিতে হবে এবং জেরুজালেমের কাছে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের জন্য কিছু জমি বরাদ্দ দিতে হবে। উল্লেখ্য, এর আগে থেকে পবিত্রস্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ইহুদিরা জেরুজালেম আসলে ৩০ দিন থাকার অনুমতি ছিল, এর পর তাদের ফিরে যেতে হতো। সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ প্রতিনিধির মাধ্যমে সেই ইহুদির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জবাবে বলেন, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) যে ভূমি জয় করেন তা গোটা মুসলিম বিশ্বের সম্পদ। আমি ফিলিস্তিনের ভূমি বিক্রি করে ইতিহাসে ঘৃণিত এবং জনগণ কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্বের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। তিনি হুকুম দেন, এ জাতীয় প্রস্তাব নিয়ে যেনো আর না আসে।
এ ঘটনার পর থেকে সুলতান ইহুদিদের জেরুজালেমে প্রবেশের ব্যাপারে আরো সতর্ক হন। তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, ইহুদিরা শুধু কৃষি এবং বানিজ্যের জন্য ফিলিস্তিনে অবস্থান করতে চায় না। তাদের এর বাইরেও অনেক উদ্দেশ্য রয়েছে। ইহুদিবাদের জনক থিওডোর হার্জেল তিনি ছিলেন ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে আলাদা রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা। থিওডোর হার্জেল ব্রিটিশদের সাথে একত্রিত হয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উৎসাহিত করেন। এই থিওডোর হার্জেল জেরুজালেম এসে সুলতানের সাক্ষাত কামনা করেন কিন্তু সুলতান সাক্ষাৎ প্রদানে রাজি হন নি।হার্জেলও চিঠির মাধ্যমে সুলতানের কাছে কিছু প্রস্তাব পেশ করেন। তন্মধ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের এক মাসের পরিবর্তে সারা বছর পরিদর্শনের সুযোগ। বিনিময়ে তারা অটোম্যান সুলতানকে ২০ মিলিয়ন স্ট্রার্লিং পাউন্ড অর্থ প্রদান ও অটোম্যান-ইহুদী যৌধ কোম্পানি গঠন, যার বিনিময়ে ৫ মিলিয়ন তুর্কি লিরা (স্বর্ন মূদ্রা) প্রদান। এই কোম্পানির উদ্দেশ্য হবে ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় বানিজ্যের উন্নতি ঘটিয়ে অটোম্যান সাম্রাজ্যের অর্থনীতির চাকা সচল রাখবে। এবং কোম্পানি অটোম্যান সাম্রাজ্যের ঋন পরিশোধ করবে। হার্জেল তার তৃতীয় প্রস্তাবে তুরস্কে শিক্ষার প্রসার ও ইহুদীদের বৈদেশিক নীতি হাসিল করার লক্ষ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চান, যার বিনিমিয়ে ১ মিলিয়ন ৬ শত হাজার গোল্ডেন লিরা দেয়ার প্রস্তাব দেন। সুলতান তাদের কাছে এই বার্তা পাঠান যে, এ পরিকল্পনা নিয়ে যেন আর অগ্রসর না হয়। আমি এক মুষ্টি মাটিও দেব না, যেহেতু আমি এর মালিক নই। এটা বিশ্ব মুসলিমের সম্পদ।মুসলমানরা ফিলিস্তিনের জন্য যুদ্ধ করে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে এ পবিত্র ভূমির জন্য। কোন দিন যদি ইসলামী খিলাফত ধ্বংস হয়ে যায় সেদিন তারা বিনা পয়সায় ফিলিস্তিন দখল করতে পারবে। কিন্তু আমি যতদিন বেঁচে থাকবো আমি আমার বুক তলোয়ারে বিদ্ধ হওয়া পছন্দ করবো তবুও ফিলিস্তিনের ভূমি ইহুদিদের হাতে থাক সেটা মানবো না। আমি জীবিত থাকতে আমার দেহের অঙ্গকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবো না।খিলাফতের শত্রুরা খুব ভালো করে উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, এই খলিফাকে না সরালে খিলাফতের কবর দেওয়া সম্ভব নয়।
উসমানীয় সামরিক বাহিনীর পাশ্চাত্যপন্থি অফিসাররা সুলতান আবদুল হামিদের শাসনের বিরোধী ছিলেন। ইহুদি-খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র ও পাশ্চাত্যের শিক্ষায় শিক্ষিত সেক্যুলারপন্থী তরুণ তুর্কি বিপ্লবরা তাকে মসনদ থেকে পদচ্যুত করে। নব্যতুর্কি নামে পরিচিত সেনা কর্মকর্তাগণ সাম্রাজ্যের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন গুপ্তসমিতি গঠন করেন। ১৯০৮ সালে তরুণ তুর্কিরা একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুলতানকে ২য় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চালু করতে বাধ্য করে। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য তরুণ তুর্কিদের দিকে চলে যায়। নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার জন্য সুলতানের অনুগত সৈনিকরা ১৯০৯ সালেএকটি পাল্টা অভ্যুত্থান পরিচালনা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়।
তাই তারা নানা অপবাদ আরোপ করে ১৯০৯ সালে খলিফাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় এবং তার ছোট ভাই পঞ্চম মুহাম্মদ কে ক্ষমতায় বসায়। আর এরমধ্য দিয়েই মূলত হাজার বছরের খেলাফত ব্যবস্থা বিলুপ্তির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি টানা কয়েক বছরের নির্বাসিত জীবনে থেকে চিরবিদায় নেন পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত ভাগ্যাহত এ সুলতান। মূলত এভাবেই তারা উসমানি খিলাফতের কফিনে শেষ পেরেক এঁটে দেওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছিল। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে ৬শ’ বছরের উসমানীয় খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটে। পরে সময়ের পরিক্রমায় আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাফতের বিলুপ্তি সাধিত হয় ১৯২৩খ্রিষ্টাব্দে।
তিনি এতো প্রস্তাব পাওয়ার পরেও তা তিনি ফিরিয়ে দেন। এর কারণ হলো তিনি কখনোই চাইতেন না পবিত্র ভূমি ইহুদিদের দখলে চলে যাক। তিনি এটাকে সব সময় মন প্রাণ দিয়ে পবিত্র রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি ইহুদিদের কাছে মাথা নত করেননি। শুধু মাত্র আল আকসা মসজিদকে ভালোবাসেন বলে।
উক্ত বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমি অনেক বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো তথ্য সংগ্রহ করার উৎস খুবই সীমিত। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আমি যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি তার একটা ছোট্ট তালিকা তুলে ধরলাম।
১) বিশেষ করে বই পাওয়া অনেক কষ্টের। কিন্তু ইন্টারনেট হওয়ার কারণে অনেকটা সুবিধা হয়েছে। বই পেলেও যে ক্রয় করতে পারব এমন নয় ,কেননা বাজারে বইয়ের অনেক দাম। একজন শিক্ষার্থী হয়ে এতো গুলি বই সংগ্রহ করা খুবই কঠিন কাজ।
২) এই বিষের উপর তেমন কোন ভালো মানের গবেষণা পত্র খুঁজে পাইনি।
৩) যেহেতু ইটা একটা একাডেমিক কাজ সেহেতু আমি নির্দিষ্ট সীমার মধ্য থেকে কাজ করতে হয়েছে।
৪) ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ আগ্রহী না যতটা আগ্রহ অন্য কোন বিয়ষয়ের উপর আছে। তাই ইচ্ছে করলেই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব না।
৫) গবেষণা অনেকটা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যেহেতু এটা
একটা একাডেমিক কাজ সেহেতু আমাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য জমা দিতে হবে এমন একটা বিষয় কাজ করেছে। গবেষণা করতে হলে সময় ও ধৈর্য্য দুইটাই থাকতে হয়।
৬) গবেষণা করতে হলে সময় ধৈর্য্য এবং মোটামুটি অর্থ খরচ করতে হয়। যেহেতু এটা একাডেমিক কাজ সেহেতু এখানে কেউ অর্থের যোগান দিচ্ছে না। একজন ছাত্র হয়ে একটা গবেষণা করা খুব কষ্টের বিষয়।
প্যান-ইসলামাবাদ
প্যান-ইসলামিজম হলো মুসলিম উম্মাহার ঐক্য প্রতিষ্ঠা। যার মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম জাতি এক পতাকা তলে ঐক্য বদ্ধ হবে। একজন খলিফার তত্বাবধানে থাকবে বা খিলাফতের প্রতি আনুগত্য পোষণ করবে। ঐক্যকেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক আন্দোলন। একটি একক ইসলামি রাষ্ট্র তথা খিলাফত বা আন্তর্জাতিক সংগঠক যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মত ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী হয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য এই আন্দোলনের মূল। তুর্কি সুলতান ২য় আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে প্যান--ইসলামিজমের ২য় ধাপের সূচনা হয়। তিনি চেয়েছিলেন মুসলিম জাতিরা যেন বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত না হয়ে এক পতাকা তলে থেকে নিজেদের উন্নয়ন করে। সকল মুসলিম একজন খলিফার নিকট বায়াত ( আনুগত্য ) গ্রহণ করবে। এতে করে মুসলমানদের শক্তি ও উন্নয়ন তরান্বিত হবে।
প্যান-ইসলামিনীতির প্রেক্ষাপট
- প্যান--ইসলামিজমের ধারণা মুলত ইসলামের সুচনা
লগ্ন
থেকে।
তবে,
বর্তমানে আমরা
যে
প্যান-ইসলামিজম দেখতে পাই তা
মুলত
জনপ্রিয় করেছেন
আফগানিস্তানের অধিবাসী জামাল
উদ্দিম
আফগানি। তবে,
অনেকে
মনে
করেন
তিনি
ইরানে
জন্ম
গ্রহণ
করেছেন।
বিশ্বের সকল
মুসলিম
দেশ
গুলিকে
নিয়ে
গঠিত
হবে
ইসলামি
সাম্রাজ্য। বিশেষ
করে
পশ্চিম
আফ্রিকার দেশ
মরক্কো
থেকে
শুরু
করে
হিমালয়
পর্বত
পর্যন্ত স্থানকে নিয়ে
এ
সাম্রাজ্য তৈরি
হবে
যাকে
দারুসসালাম বলা
হয়।
তবে
বর্তমানে এর
বিস্তৃতি হয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবীতে যত
মুসলিম
দেশ
আছে
সকল
দেশ
নিয়েই
প্যান-ইসলামিজম সাম্রাজ্য গঠিত হওয়ার পরিকল্পনা সাজানো
হয়েছে।
প্যান--ইসলামিজমের ধারণা সবার আগে
তুলে
ধরেন
জামাল
উদ্দিন
আফগানি।তিনি সবাইকে
বুঝাতে
চেয়েছিলেন সকল
মুসলিমকে এক
খলিফার
তত্বাবধানে আসা
দরকার।
প্যান-
ইসলাম
বুঝতে
হলে
আমাদের
কে
ঐ
সময়ের
সমাজ
সম্পর্কে কিছুটা
ধারণা
থাকতে
হবে।
তখন
উসমানীয় সাম্রাজ্যে চলছিল
তানজিমাত বা
সংস্কার আন্দোলন। প্রাচ্যের সমাজ
ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে
এই
আন্দোলনের সুচনা
হয়।
তখন
উসমানী
সাম্রাজ্যে দেখা
দেয়
বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা। এই
বিশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করার
জন্য
২য়
আব্দুল
হামিদ
প্যান-
ইসলামিজমকে সামনে
নিয়ে
আসেন।
প্যান-
ইসলামবাদের জন্ম
অনেক
গুলি
বিষয়ের
উপর
নির্ভর
করে
হয়েছিল। তার
মধ্যে
অন্যতম
হলো
ইউরোপদের উপনিবেশিক শাসন
প্রতিষ্ঠা। ইউরোপীয়রা যখন
সমগ্র
বিশ্বে
তাদের
উপনিবেশিক শাসন
প্রতিষ্ঠা শুরু
করল,
তখন
উসমানীয় খলিফা
সমগ্র
মুসলিম
দেশ
গুলিকে
এক
হওয়ার
আহবান
জানান।
এর
কারণ
হলো,
সমস্ত
মুসলিম
জাহান
এক
হলে
ইউরোপিয়রা কিছুই
করতে
পারবেনা। পরবর্তীতে তাঁর
এ
ধারণা
সত্য
হয়।এবং
সমগ্র
বিশ্বের শাসন
কার্য
ইউরোপীয়দের হাতে
চলে
যায়।
জামাল
উদ্দিন
আফগানি
মুসলমানদের কে
বুঝাতে
চেয়েছেন যে
জাতীয়
রাষ্ট্র মুসলমানদের ঐক্য
বিনষ্ট
করছে।
এর
ফলে
মুসলমানদের মধ্যে
দুরত্ব
তৈরি
হচ্ছে।
কিন্তু
মুসলমানরা যদি
এক
খলিফার
তত্বাবধানে আসে
তাহলে
মুসলমানদের শক্তি
বৃদ্ধি
পাবে।
জামাল
উদ্দিন
আফগানির এ
মতবাদ
উসমানীয় সুলতান
২য়
আব্দুল
হামিদ
এর
ভালো
লাগে।
যার
জন্য
তিনি
জামাল
উদ্দিন
আফগানিকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
প্যান-ইসলামাবাদ ব্যার্থ হয়েছিল কেন ?
১) নব্য তুর্কীদের অপতৎপরতা - উসমানীয় ৩৪তম খলিফা ২য় আব্দুল হামিদের প্যান--ইসলামিজম ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো নব্য তুর্কীদের অপতৎপরতা । নব্য তুর্কীদের মূল অন্যতম ছিলেন আনোয়ার পাশা, তালাত পাশা এবং জামাল পাশা তাঁদের অপতৎপরতার কারণে খলিফার প্যান- ইসলামবাদ ব্যর্থ হয়।
২) আব্দুল ওহাব নজদির অপপ্রচারের কারণে উসমানীয় খলিফা ২য় আব্দুল হামিদের প্যান--ইসলামবাদ ব্যর্থ হয়। আব্দুল ওহাব নজদি সুফিবাদকে শিরকি মতবাদ হিসেবে আক্ষা দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন মহান ব্যাক্তিদের মাজার ভেঙে গুড়িয়ে দেন। সেই সাথে আব্দুল ওহাব নজদি উসমানীয় ফিলাফতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতেন। কারণ জাতিতে উসমানীয় শাসকটা ছিলেন তুর্কী আর আব্দুল ওহাব নজদি ছওলেন আরবের নজদের মানুষ। তাই তিনি চাইতেন সমগ্র মুসলিম বিশ্বের নেতা হবেন একজন আরব।
৩) ব্রিটিশদের অপতৎপরতা - খলিফা আব্দুল হামিদের প্যান-ইসলামবদের ভয়ে ব্রিটিশ শাসকেরা বিচলিত হয়ে খলিফার বিরুদ্ধে বিভি মিথ্যা তথ্য ছড়াত থাকেন। যেন মানুষকে মাঝে খলিফার প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে যা বাস্তব রূপ লাভ করেছল।
৪) প্রাসাদ ষড়যন্ত্র- খলিফা আব্দুল হামিদের প্যান-ইসলামবাদ ব্যর্থ হওয়ার আরো একটা কারণ হলো প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। খলিফার ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে তাঁর সকল পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়।
৫) ইহুদিদের ষড়যন্ত্র - খলিফা আব্দুল হামিদের প্যান-ইসলামবাদ ব্যর্থ হওয়ার আরো একটা কারণ হলো ইহুদিদের গভীর ষড়যন্ত্র। তারা খলিফাকে বাধ্য করেন তাদেরকে ফিলিস্তিনের মাটিতে বসবাসের উপযোগী স্থান করে দেয়ার জন্য।
৬) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ - খলিফার প্যান-ইসলামবাদ ব্যর্থ হওয়ার আরো একটা কারণ হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। অক্ষশক্তি ও মিত্র শক্তিতে সমগ্র পৃথিবী বিভক্ত হয়ে যায়। তুরস্ক তখন অক্ষশক্তিতে যোগ দেয়। কিন্তু খলিফা ২য় আব্দুল হামিদ ১৯০৯ সালেই ক্ষমতাচ্যুত হন। কিন্তু প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল ,যার কারণে তাঁকে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হয়।
প্যান-ইসলামি আন্দোলন
প্যান-ইসলামী মতাদর্শের মূল ভিত্তি ছিল একই খলিফার অধীনে সমগ্র মুসলিম জাহানকে একতাবদ্ধ করা। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে আব্বাসীয় বংশের পতনের পর মুসলিম সাম্রাজ্য খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়ে এবং এই বিচ্ছিন্নতার কারণে উনবিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র ইউরোপীয় শক্তির আওতাধীনে আসে। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের করাল গ্রাসে বহু মুসলিম রাষ্ট্র পতিত হয়। প্যান-ইসলামী চিন্তাধারা তুরস্কের নব্য তুর্কিদের বিশেষ করে নমিক কামাল প্রমুখের মধ্যে উন্মেষ হয়। নিজ সাম্রাজ্যে অতুর্কি, বিশেষ করে বিশাল আরব বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর আনুগত্য লাভের জন্য সুলতান আবদুল হামিদ এই ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হন। আবদুল হামিদের রাজত্বে আলেপ্পোর শেখ আবু আল হুদা ছিলেন একজন প্যান-ইসলামী আদর্শবাদী। তিনি ওয়াহাবি মতবাদের বিরোধী ছিলেন। তার মতবাদ ছিল : একমাত্র খিলাফতের মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে একতাবদ্ধ করা যেতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, খিলাফত একটি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান এবং আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠার একমাত্র মাধ্যম। বিশ্বাসীরা (খলিফা) ন্যায় করলে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে এবং অন্যায় করলে ধৈর্য ধারণ করবে। কিন্তু আবু আল হুদার প্যান-ইসলামী আদর্শ কেবল আবদুল হামিদের রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বৈদেশিক হামলা থেকে তুরস্ক রক্ষা করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্যান-ইসলামবাদের সর্বাপেক্ষা খ্যাতিমান প্রতিভূ ছিলেন সৈয়দ জামালুদ্দিন আল-আফগানি। তার জীবন ছিল ঘাত-প্রতিঘাতপূর্ণ। তার জন্ম হয় পারস্যে, যদিও তিনি নিজেকে আফগানি বা আফগানিস্তানের অধিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি মতবাদে শিয়া হলেও নিজেকে সুন্নি হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার মধ্যে পরস্পরবিরোধী গুণাবলির সমাবেশ দেখা যায়। অনেকের মতে, তিনি পারস্যের বিপ্লবের পুরোধা ছিলেন। কিন্তু এ কথাও স্পষ্ট যে, তিনি শাসনতন্ত্রবাদী নন। তিনি মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ভ্রমণ করে এমন একজন শক্তিধর ও প্রভাবশালী শাসকের সন্ধান লাভের চেষ্টা করেন যার মাধ্যমে ইসলামকে পুনর্জীবিত ও একগ্রন্থিভুক্ত করতে পারেন। তার লেখনী ছিল খুব প্রখর এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি অসংখ্য পুস্তিকা প্রকাশ করেন। আফগানি ইরানে আসাদাবাদী নামে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই যোগ্য, প্রতিভাশালী এবং কার্যকর আন্দোলনকারী। তিনি ধর্মতত্ত্ব অপেক্ষা দর্শনশাস্ত্রকে অধিক প্রাধান্য দিতেন। তাঁর রাজনীতি বাস্তব কর্মপন্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল, কারণ তিনি কল্পনাবিলাসী ছিলেন না। ওয়াহাবিদের মতো তিনি প্রথম চার খলিফার যুগকে ইসলামের সর্বাপেক্ষা আদর্শ যুগ বলে মনে করতেন, যদিও ওয়াহাবিদের গোঁড়া মতবাদে তিনি আস্থাবান ছিলেন না। তিনি যুক্তিবাদ ও আধুনিকতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এ কারণে আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ যথা বাষ্পীয় ইঞ্জিন এবং বিদ্যুতের মতো আধুনিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কোরআনের আয়াতে বর্ণিত রয়েছে— এ কথা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। তিনি যুক্তি দ্বারা সব বাণীর মর্ম উপলব্ধি করার তাগিদ দেন এবং ইসলামকে ধর্মীয় ঐক্যের দ্বারা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার মনে করতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, ইসলামে একজন মার্টিন লুথারের (সংস্কারক) প্রয়োজন এবং সম্ভবত তিনি নিজেকেই এই বিরল প্রতিভার ধারক বলে মনে করতেন। বিশ্ব-ইসলামবাদী আফগানি ইরান ও তুরস্কের মধ্যে মৈত্রী স্থাপনের চেষ্টা করেন; তিনি ইসলামের ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আশা পোষণ করতেন যে, ইরানের শাহ তুরস্কের সুলতানকে খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং বিনিময়ে সুলতান ইরানের স্বাধীনতাকে মানিয়ে নেন। তিনি তুরস্কের অধিকৃত শিয়াদের পবিত্র স্থানসমূহ যেমন কারবালা, নজফ ইরানকে ফেরত প্রদানের পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। মুসলিম বিশ্বকে একতাবদ্ধ করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তিলাভের জন্য তিনি ইস্তাম্বুলে একটি মহাসম্মেলন আহ্বানের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী নীতি ধূলিসাৎ করা। পারস্যের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের জন্য আফগানি শাহকে ১৮৯১ সালে পারস্য থেকে বিতাড়িত করেন।
উল্লেখ্য, তিনি শিয়া ছিলেন এবং তাঁর শিয়া অনুসারীর হাতে ১৮৯৬ সালে নাসিরউদ্দিন শাহ নিহত হন।সৈয়দ জামালুদ্দিন আফগানি শিয়া হয়েও মুসলিম জাহানকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আফগানি নাম ধারণ করে নিজেকে সুন্নি হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্ব ইসলামবাদের মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ইসলামের একতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতার জন্য তিনি কিছুকাল ব্রিটিশদের সহযোগিতা কামনা করেন।
কীভাবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন সুলতান আব্দুল হামিদ?
খলিফা
২য়
আব্দুল
হামিদের
সময়ে
উসমানীয়
শাসন
ব্যবস্থায়
প্রচুর
সংস্কার
নিয়ে
আসেন।
তিনি
মনে
করতেন
তুর্কিদের
তথা
উসমানিয়দের
ইউরোপ
থেকে
উচ্চশিক্ষিত
হয়ে
তাদের
প্রযুক্তিগত
উন্নয়ন
থেকে
লাভবান
হওয়া
দরকার।
সে
লক্ষ্যেই
তিনি
মেধাবী
তুর্কিদের
উচ্চশিক্ষা
গ্রহণের
জন্য
ফ্রান্স,
ব্রিটেনসহ
অন্যান্য
ইউরোপীয়
দেশে
পাঠান।
এছাড়াও
সরকারের
অনেক
বড়
বড়
আমলা
এবং
কূটনীতিবিদদের আরও বেশি ট্রেনিং
নিতে
ইউরোপ
পাঠানো
শুরু
করেন।
কিন্তু
ওই
শিক্ষার্থী
এবং
কূটনীতিবিদের
একটা
অংশ
তখন
অটোম্যান
সম্রাজ্যকে
আধুনিকীকরণ,
ওসমানীয়দের
অধীনে
বসবাসকারী
বিদেশী,
সংখ্যালঘু
এবং
বিধর্মীদের
আরও
বেশি
সুযোগ
সুবিধা
দেয়া
এবং
গণতন্ত্র
নিয়ে
আসার
লক্ষ্যে
গোপন
একটা
সংগঠন
তৈরি
করেন।
তাদের
নেতৃত্বে
মূলত
ছিলেন
কুর্দি,
আলবেনিয়ান,
আর্মেনিয়ান,
আরব
এবং
বলকান
বংশোদ্ভূত
লোকজন;
যারা
উসমানীয়
শাসন
ব্যবস্থায় অনেক বড় বড় পদে ছিলেন।
একটা
নির্দিষ্ট
সময়
পর্যন্ত
তারা
গোপনে
সালতানাতের
বিরুদ্ধে
সংগঠিত
হওয়ার
চেষ্টা
করে।
অল্প
সময়ের
মধ্যেই
তারা
বড়
একটা
সংগঠনে
রূপ
নেয়।
এদিকে
ফ্রান্স
এবং
ব্রিটেন
তখন
অটোমান
সম্রাজ্যকে
ভাঙার
এবং
নিজেদের
মধ্যে
ভাগ
বাটোয়ারার
বিস্তারিত
প্লান
করতে
থাকে।
একদিকে
সরকার
মধ্য
থেকে
মাথাচাড়া
দিয়ে
ওঠা
সালতানাত
বিরোধী
একটি
গ্রুপ,
অন্য
দিকে
ইউরোপ
থেকে
উসমানীয় কে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাওয়ার প্লান।
সুলতান
এ
অবস্থা
টের
পান
এবং
বিদেশে
থাকা
‘তরুণ
তুর্কি’
নামে
এই
গোপন
সংগঠনটির
অনেক
সদস্যকে
দেশে
ফিরিয়ে
আনেন।
সরকারের
বিভিন্ন
পদে
তাদেরকে
স্থান
দিয়ে
নিজের
নজরদারিতে
রাখেন।
কিন্তু
তাদের
একটা
অংশ
গোপনে
গোপনে
সংগঠিত
হওয়ার
কাজ
চালিয়ে
যেতে
থাকে।
আর
তারা
আবারো
সুসংগঠিতহয়।
সরকারের
মধ্যের
বড়
বড়
পাশা,
উজির,
নাজিরসহ
অনেকেই
তাদের
দলে
যোগ
দেয়।
সুলতানকে
আরও
বেশি
ডেমক্র্যাসি
নিয়ে
আসার
জন্য
চাপ
দিতে
থাকে।
দেশে
বিদেশে
বিভিন্ন
জায়গায়
তারা
অটোম্যান
তুর্কি,
ফরাসি,
ইতালি,
ইংরেজি
ভাষায়
পত্রিকা
চালু
করে।
ব্রিটেন,
ফ্রান্স,
অস্ট্রিয়া,
বুলগেরিয়া,
ইতালি,
গ্রীস,
রোমানিয়া,
সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, আমেরিকা
এবং
সাইপ্রাস
সহ
প্রায়
১৩
টি
দেশে
১৫২টিরও
বেশি
সংবাদপত্র
বের
করেন
এই
তরুণ
তুর্কিরা।
উদ্দেশ্য
তাদের
পক্ষে
দেশে এবং বিদেশে জনমত গড়ে তোলা।
ইউরোপে
শিক্ষা
গ্রহণ
করা
অনেক
বুদ্ধিজীবীর
লেখা
তখন
এসব
পত্রিকায়
ছাপানো
হয়
এবং
এগুলো
এই
"তরুণ
তুর্কি"দের
পক্ষে
জনমত
গড়তে
প্রচুর
প্রোপাগান্ডা
চালায়।
জন
তুর্ক
বা
ইয়ং
তুর্ক
নামে
পরিচিত
এই
গ্রুপটি
পরবর্তীতে
ইত্তিহাদ
এবং
তেরাক্কি
নামে
একটু
নতুন
রাজনৈতিক
দল
গঠন
করে।
আর
এই
ইত্তিহাদ
তেরাক্কি
নামক
দলটিতে
সালতানাতের
বিভিন্ন
এলাকা
থেকে
বিভিন্ন
মতাদর্শের
লোকজন
যোগ
দেয়।
তাদের
মধ্যে
পান
ইসলামিক
চিন্তাধারার
লোকজনও
থাকে,
তেমন
থাকে
তুর্কি
জাতীয়তাবাদে
বিশ্বাসী,
আবার
থাকে
অটোম্যানিজমে
বিশ্বাসী
লোকজনও।
ইসলামি,
তুর্কি,
এবং
অটোম্যান
মতবাদ
প্রতিষ্ঠার
স্বপ্ন
দেখতেন
এরকম
অনেক
বিশিষ্ট
ব্যক্তিবর্গ
যোগ
দেন
এই
ইত্তিহাদ
তেরাক্কিদলে।
তারা
তখন
সুলতানের
ক্ষমতাকে
খর্ব
করার
জন্য
একটি
সংসদ
গঠনের
প্রস্তাব
দেন।
তাদেরকে
তখন
সরাসরি
সাপোর্ট
দেয়
সরকারের
মধ্য
থেকে
অনেক
বড়
বড়
পদের
ব্যক্তিবর্গ
এবং
সেনাবাহিনীর
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
অংশ।
সুলতান
তাদের
চাহিদা
মোতাবেক
একটি
পার্লামেন্ট
গঠনের
সিদ্ধান্ত
নেন।
এবং
পার্লামেন্টের সদ্যসদ্যের
কিছু ক্ষমতাও
দেন।
চালু
হয়
সংসদীয়
সালতানাত
ব্যাবস্থা।
কিন্তু
কিছুদিন
যেতে
না
যেতেই
অকেজো
হয়ে
পারে
এই
পার্লামেন্ট।
কারণ,
পার্লামেন্ট
সদ্যসদ্যের
মধ্যে
যে
যেই
জাতি
এবং
মতাদর্শের
সে
তার
নিজস্ব
জাতি
এবং
মতাদর্শের
পক্ষে
এতো
গোঁয়ারতুমি
করা
শুরু
করেন
যে
ঐকমত্য
হয়ে
কোনো
আইন
পাস
করা
অসম্ভব
হয়ে পড়ে।
এ
অবস্থায়
সুলতান
পার্লামেন্টকে স্থগিত করেন। তখন
এই
ইত্তেহাদ
তেরাক্কি
গ্রুপটি
সেনাবাহিনীর
একটি
অংশকে
ব্যবহার
করে
বহুবার
সুলতান
আব্দুল
হামিদের
বিরুদ্ধে
সামরিক
এবং
গণ
অভ্যুত্থান
ঘটানোর
চেষ্টা
চালায়।
শেষ
পর্যন্ত
১৯০৯
সালের
২৭শে
এপ্রিল
অটোম্যানদের
শেষ
স্বাধীন
সুলতান
আব্দুল
হামিদ
খানকে
জোড়
করে
ক্ষমতাচ্যুত
করে
এই
ইত্তিহাদ
তেরাক্কি
নামক
সংগঠনটি।
আব্দুল হামিদের কৃতিত্ব
শিক্ষা
সংস্কার - খলিফা
আব্দু
হামিদের অন্যতম
কৃতিত্ব হলো
তিনি
উসমানীয় খিলাফতের অধীনে
তথা
তুর্কি
জনগণকে
আধুনিক
শিক্ষায় শিক্ষিত করতে
পেরেছিলেন। তিনি
তাঁর
দেশের
যুবকদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশের
শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রেরণ
করেছিলেন। পরবর্তীতে ঐ
পশ্চিমা শিক্ষিত যুবকরা
তাকে
বিভিন্ন ভাবে
ক্ষতি
করে
সবশেষে
তাঁকে
ক্ষমতা
থেকে
বিতাড়িত করে।
মুসলিমজাতির ঐক্য
প্রতিষ্ঠা - তাঁর
সফলতার
মধ্যে
অন্যতম
হলো
সকল
দেশের
মুডিসলিমদের মধ্যে
ঐক্য
প্রতিষ্ঠা করার
চেষ্টা। কিছু
কিছু
জায়গায়
তিনি
সফল
হয়েছিলেন। কিছু
কিছু
জাগায়
ব্যর্থ
হয়েছিলেন। তারপর
ও
ইটা
তাঁর
একটা
সফলতা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
- তাঁর
সফলতার
অন্যতম
হলো
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তিনি
আধুনিক
ইউরোপের ন্যায়
রাস্তা
ঘাট
নির্মাণ করেছিলেন। এর
মধ্যে
উল্ল্যখ যোগ্য
হলে
রেক
লাইন
নির্মাণ।
সামাজিক সংস্কার - খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় এর শাসন আমল বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো তার তানজিমাত। তাঁর কৃতিত্বের অন্যতম উল্লেখ যোগ্য হলো এই তানজিমাত। মধ্য যুগীয় ভাবধারা থেকে বেড়িয়ে তুর্কী সমাজকে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নিয়ে আসার যত কৃতিত্ব সব খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় এর।
অর্থনৈতিক সংস্কার- তুর্কী উসমানীয় শাসকরা বিভিন্ন ভাবে ঋণ করে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলেছিলেন। খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় এই পরিস্থিতি থেকে তাঁর সাম্রাজ্যকে উত্তরণ করেন। ইহুদিদের বিশাল অর্থনৈতিক প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
প্যান-ইসলামবাদ- খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি এবং ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের হাত থেকে মুসলিম বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য উক্ত মতবাদ প্রচার করেন। এটাও তাঁর শাসন কালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আল আকসা মসজিদ রক্ষা - আল আকসা মসজিদ রক্ষা খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই এটা একটা তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। ঋণের জালে জর্জরিত হয়েও তিনও পবিত্র ভূমি জেরুজালেম তথা আল আকসা মসজিদের দায়িত্ব কারো হাতে সমর্পণ করেন নি।
সামরিক
বাহিনীর - প্রতিটা শাসকের
মূল
শক্তি
হলো
তার
সামরিক
বাহিনী। খলিফা
আব্দুল
হামিদ
২য়
ও
তা
বুঝতে
সক্ষম
হয়েছিলেন। তাই
তিনি
তাঁর
সামরিক
বাহিনীকে আধুনিক
যুদ্ধ
প্রশিক্ষণ দেয়ার
জন্য
বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেন।
এর
তিনি
তাদের
ইউরোপীয় যুদ্ধ
কৌশল
রপ্ত
করার
জন্য
ইউরোপে
পাঠান।
আধুনিক
অস্ত্রে সুসজ্জিত করেন।
উসমানীয় খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় তাঁর শাসন আমলকে করেছেন জাঁকজমকপূর্ণ নিজ কর্মের মাধ্যমে। তিনি বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে নিজ অধিকৃত অঞ্চলের সমৃদ্ধি সাধন করতে সক্ষম হয়েছন। অনেক কাজে তিনি অভাবনীয় সফল হয়েছিলেন এবং কিছু কাজে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শাসক। নিজ দেশের নাগরিকদের মঙ্গল কামনাই ছিল তাঁর ধর্মকর্ম।
তাঁর শাসন কাল বিভিন্ন দিক থেকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তানজিমাত ও প্যান-ইসলামবাদ তার মধ্যে অন্যতম। তানজিমাতের মাধ্যমে তিনি তুর্কী সমাজে শিক্ষা বিপ্লব তৈরি করেন। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এখানে নানা মুখি চ্যালেঞ্জ ছিল।
ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন যখন সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে গ্রাস করে নিচ্ছিল তখন একমাত্র বাঁধা হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন খলিফা আব্দুল হামিদ ২য়।
তিনি ইউরোপীদের আগ্রাসন থেকে মুসলিম বিশ্বকে বাঁচাতে অবতারণ করেন প্যান-ইসলামবাদ। সকল মুসলিম এক খলিফার তত্বাবধানে থাকবে। যদিও তিনি এই মতবাদের উদ্ভাবক নন। কিন্তু মুসলমান জাতির ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে এই মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
তাঁর এই মহান কর্মকে ব্যর্থ করার জন্য নানা মুখি চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপর ও তিনি থেমে থাকেন নি। তিনি কাজ করে গেছেন অনবরত।
ইউরোপীয়দের একমাত্র ভয় ছিল খলিফা আব্দুল হামিদ ২য়। তাই তাঁর বিরুদ্ধে যতপ্রকার মিথ্যা তথ্য ছড়ানো যায় তারা তার সবটুকুই করেছে। অনেক মুসলিম তাদের সাথে মিশে গিয়ে মহান খলিফা আব্দুল হামিদ ২য় এর বিরুদ্ধাচারণ করেছেন।
তিনি সমগ্র মুসলিম জাহানের কান্ডারী হয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর কর্মকে সফল হতে দেয়নি কিছু নাম দরি মুসলিম। তাঁর পতনের মধ্য দিয়েই চিরতরে শেষ হয়ে যায় মুসলিম বিশ্বের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস।
স্যালোনিকায় নির্বাসনে পাঠানো
হয়।
সেখানে
তাকে
এক
ইহুদির
বাড়িতে কড়া
নজরবন্দির মধ্যে
রাখা
হয়।
এরপর
তাকে
ইস্তাবুলে এনে
বায়লারবি প্রাসাদে রাখা
হয়।
এই
মহান
খলিফা
২৮
রবিউল
আউয়াল
১৩৩৬
মোতাবেক ১০ই
ফেব্রুয়ারি ১৯১৮
সালে
৭৬
বছর
বয়সে
মৃত্যুবরণ করেন।
Mohammad Khairul Bashar
Islamic history and culture ( Term Paper )

কোন মন্তব্য নেই