হালাল ও হারামের বাংলা কী ও এর তাৎপর্য ?
আজকে এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা শোনার পর আপনার ভিতরে এক ধরনের পরিবর্তন আসবে আশা করি। সেই সাথে আপনি অনেক গুলি বিষয়ে নিজ থেকেই সমাধান দিতে পারবেন। কোন মুফতির ধারস্ত হতে হবেনা।
আজকের আলোচনার বিষয় বস্তু হলো হালাল ও হারাম।
মুল পর্বে ঢুকার পূর্বে আপনাদের জন্য ছোট্ট দুইটা কুইজ।
বলুনতো গায়ে ট্যাটু আকা হালাল না হারাম? এবং গরম দুধ খাওয়া হালাল না হারাম?
সাধারণ মুসলিরা ধর্ম সম্পর্কে এতো পড়াশোনা করা সম্ভব নয়। লক্ষ লক্ষ হাদিস সম্পর্কে জানা একেবারেই অসম্ভব।
লক্ষ লক্ষ কাজের মধ্যে কোন কাজটা হালাল আর কোন কাজটা হারাম বলা মুশকিল। আজকের ভিডিও টা বানানের মুল উদ্দেশ্য হল, হাজার হাজার সমস্যার সমাধান যেন আপনি নিজ থেকেই করতে পারেন, একটি মাত্র সু্ত্র দিয়ে।
আমরা যারা ইসলাম ধর্ম অনুসারী আছি, আমাদের কাছে হালাল হারাম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হালাল হারাম মেনে চলা আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। যদি কেউ হালাল হারাম ভেদ বিচার না করে তাহলে তার জন্য আছে পরকালে কঠিন আযাব।
প্রথমে আমাদের জেনে নেয়া উচিৎ হালাল হারাম কী?
হালাল হলো ইসলামি শরিয়া দ্বারা অনুমোদিত বা স্বীকৃত কোন কাজ করার অনুমতি। যা পালন করলে নেকি বা পুণ্য হয়।
হারাম হলো ইসলামি শরিয়া দ্বারা নিষেধ যা পালন করলে গুনাহ বা পাপ হয়।
আমরা মুসলিমরা এগুলি খুব ভাল করেই জানি। তারপর ও আমরা হালাল হারাম বিচার করিনা। নির্বিচারে চলি। তার কারণ হলো হালাল ও হারামের বাংলা কী ও এর তাৎপর্য ?
কিন্তু আমরা যদি জানতাম হালাল ও হারামের বাংলা কী ও এর তাৎপর্য ?কী তাহলে আমরা কখনোই এগুলি অমান্য করার কথা মাথায় আনতাম না।
আজকে আমরা জানব হালাল হারামের তাত্পর্য কী?
হালালের বাংলা হলো কল্যাণকর বা মজ্ঞলজনক বা হিত কর। যা পালনের মাধ্যমে আমাদের ইহকালের কল্যাণ ও পরকালের মুক্তি হবে।
হারামের বাংলা হলো ক্ষতিকর বা অমজ্ঞল জনক। যা পালনে ইহকালের ক্ষতি ও পরকালের সাজা অবধারিত।
মনে করুন আপনি গাঁজা সেবন করেন কিন্তু আপনি জানেন না গাঁজার ক্ষতির দিকটা কী? শুধু জানেন এটা হারাম। কিন্তু কেউ যদি জানে গাঁজা সেবন করা স্বস্থের জন্য ক্ষতিকর তখন কেউ আর গাঁজা সেবন করবেনা।
আমরা সাধারণত হারাম জানি কিন্তু ক্ষতিকর সেটা জানিনা, যার জন্য অনেক কাজ হারাম হওয়া সত্যেও করে থাকি।
এ বাক্য দুটি যদি আমরা মনে রাখতে পারি তাহলে নতুন নতুন অনেক সমস্যার সমাধান নিজেরাই দিতে পারব। যে বিষয় গুলি আমরা জানিনা। কোন মুফতির কাছেও যেতে হবেনা।
এই দুটি বাক্য দ্বারা আমরা কী বুঝতে পারলাম একটু আলোচনা করা যাক।
যা কিছু আমাদের শরীর ও জীবনের জন্য ভালো তাই হালাল। আর যা আমাদের শরীর ও জীবনের জন্য খারাপ তাই হারাম।
তার মানে হলো আপনি আপনার বিবেক কে কাজে লাগিয়ে যখন একটু চিন্তা করবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন কোনটা আপনার জন্য ভালো আর কোন আপনার জন্য খারাপ।
যেটা ভালো সেটাই হালাল আর যেটা খারাপ সেটাই হারাম।
এমন কোন কিছু পাওয়া যায়নি যেটা শরীরের জন্য খারাপ আর হাদিসে বলা আছে হালাল। সুতরাং হালাল মানেই ভালো। হারাম মানেই ক্ষতি।
মনে করুন কেউ এসে আপনাকে জিগ্যেস করল গাঁজা সেবন করা কি হালাল না হারাম ? আপনি কিন্তু এক কথাতেই উত্তর করতে পারবেন হারাম, তাইনা?
কেন পারলেন বলেন তো? কারণ আপনি জানেন গাঁজা নেশা জাতীয় দ্রব্য , যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই কথা গুলি আমরা জন্মের পর থেকেই শুনে আসছি তাই। কিন্তু যে বিষয় গুলি আমরা জানিনা সেগুলো উত্তর কিভাবে দিব?
একটাই সুত্র, যা শরীরের জন্য ভালো তাই হালাল আর যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর তাই হারাম।
এই সুত্রটা দিয়েই আপনি ম্যাক্সিমাম সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
এবার যদি বলি বয়লারের মুরগির গিলা কলিজা খাওয়া কি হালাল না হারাম? এবার কিন্তু আপনি ভরকে গেলেন তাইনা?
আপনি যদি জানতেন বর্তমানে বাজারে যে বয়লারের মুরগী গুলি পাওয়া যায় সেগুলির শরীরে বিষাক্ত ক্যামিকেল আছে তাহলে আপনি সহজেই বলতে পারতেন বয়লারের মুরগির গিলা কলিজা খাওয়া উচিৎ না হারাম মানে ক্ষতিকর।
আপনি কি বিষাক্ত গিলা কলিজা খাবেন যা আপনার স্বাস্থের জন্য হুকমি? কখনোই খাবেন না।
বুঝাতে পারলাম কি?
এক কথায় বলছি, যে সকল জিনিস বা বিষয় আমাদের জন্য ভালো তাই হালাল আর যে সকল জিনিস আমাদের জন্য খারাপ তাই হারাম।
নতুন কোন বিষয় যদি আমাদের মাঝে উপস্থিত হয় তাহলে আমরা কি সমাধান দিতে পারবনা? নিশ্চয়ই পারব। কারণ আমরা জানি, হালাল হারাম কী?
উপরের কুইজ গুলির উত্তর আপনারা কমেন্টে লিখুন।
ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি আজকের আলোচনা।
কোন মন্তব্য নেই