বর্তমান মুসলিম বিশ্বের প্রথম সারির নেতা কে ?
বর্তমান মুসলিম বিশ্বের প্রথম সারির নেতা কে? প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলবে রিসেপ তাইয়েব এরডোগান। কেউ কেউ বলবেন ইমরান খান।
সকলের উত্তর আবেগন তাড়িত। আসলে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে ডিপ্লোমেটিক নেতা হলেন সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান।
অনেকে আমার মতামতের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন এটা নিশ্চিত।
তবে এই আলোচনা টি পড়ার পর আপনার মনের সকল ধারণার আমুল পরিবর্তন হবে বলে আমি আশা করি।
ইতিহাসের ছাত্র হওয়ার কারণে বর্তমান রাজনৈক বিষয়ের উপর আমার আকর্ষণ একটু বেশি। ইতিহাসের ছাত্র হওয়ার কারণে আমি শাসকের সফলতা বিচার করি তার কাজের দূরদর্শিতা দেখে।
তুরস্কের নেতা রিসেপ তাইয়েব এরডোগান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাজের দূরদর্শিতা আমার চোখে সে ভাবে ধরা পরেনি।
এরডোগানের শাসনামলে তুরস্ক মুদ্রাস্ফীতির মত বড় ধরনের সমস্যায় পরেছে। আর এদিকে ইমারান খানের দেশ পাকিস্তান পরেছে ঋণের জালে।
অন্য দিকে মুহাম্মদ বিন সালমান যখন থেকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন তখন থেকে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও কূটনীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে।
মুহাম্মদ বিন সালমানের কাজ কর্মকে যদি আপনি শরিয়ার দৃষ্টি দিয়ে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন সে নাফরমানি কাজ করেছে।
কিন্তু আপনি যদি একজন গবেষক বা রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে দেখেন তখন আপনি দেখতে পাবেন মুহাম্মদ বিন সালমান কত বড় মাপের কূটনীতিক। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা দিয়ে ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় নেতাদেরকে নাকে দড়ি বেঁধে গোঁড়াচ্ছ।
তেলের দাম কমিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে। আমেরিকার কাছ থেকে বড় দাগের অস্ত্র কিনে আমেরিকাকে হাতে রেখেছে যার ফলে ইরানের ঘুম হারাম।
একের পর এক সৌদি জোটের বিমান হামলায় ইয়েমন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কিন্তু বিশ্ব কিছুই বলছেনা। কারণ যাকে যা দেয়ার তিনি তাকে সেভাবেই দিচ্ছেন।
আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি ও ইরানের বিরুদ্ধে। দুইয়ে দুইয়ে চার। ইয়েমেনে বোমা মেরে বলে এখানে হুতি বিদ্রোহীরা আছে, যারা ইরানের হয়ে কাজ করে। এই একটা বাক্য দিয়েই সমগ্র বিশ্বকে ঘোলা পানি খাওয়াচ্ছে।
ঠিক তেমন করে পশ্চিমাদের সাথে যাদের সম্পর্ক খারাপ সৌদির সাথে ও তাদের সম্পর্ক খারাপ। তার মানে বুঝতে পারছেন?
এটাও একটা সৌদির কূটনৈতিক সাফল্য। সৌদি কাটা দিয়ে কাটা তুলছে।
মুহাম্মদ বিন সালমানের সবচেয়ে বড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গুলো জানলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।
সৌদি তেল নির্ভরশীল একটি দেশ। কিন্তু মুহাম্মদ বিন সালমান তেল নির্ভরশীলতা থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছেন। তাইতো তিনি সৌদি কে ঢেলে সাজাতে চাইছেন।
তিনি চাইছেন সৌদি যেন পর্যটন নির্ভর একটি দেশ হয়। যেমন পাশের দেশ আরব আমিরাতে মত।
পর্যটন নির্ভর দেশ হতে হলে তাকে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তারই ধারাবাহিকতায় তিনি নারীদের গাড়ি চালানো, উট দৌড় প্রতিযোগীতায় নারীদের অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
গানের কনসার্ট করেছেন। মদের দোকান এবং পান করার বৈধতা দিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট স্থানে করার অনুমতি দিয়েছেন।
যে ভাবেই হোক তাঁর দেশ যেন তেলের উপর বেশি দিন নির্ভর না করে সেদিকে নজর রাখছে এবং পর্যটন নির্ভর একটি দেশে পরিনত হয় সেদিকে নজর বেশি।
আমাদের দেশ যেমন, সেলাই করা পোশাক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, ঠিক সৌদি আরব পর্যটন খাত থেকে আয় করতে চাইছেন।
সৌদির সাথে কোন দেশের সরাসরি কোন সংঘাত নেই। কারণ তাঁরা কৈ মাছের তেলে কৈ মাছ ভাজা জানে।
মুহাম্মদ বিন সালমান একজন পাক্কা খেলোয়াড়, যিনি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কলকাঠি নাড়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি অতন্ত্য মেধাবী ও শিক্ষিত। তাই তিনিই বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে ডিপ্লোমেটিক নেতা।
তাঁর সফলতা কামনা করে শেষ করছি আজকের আলোচনা।
Mohammed bin Salman
কোন মন্তব্য নেই