ফেরাউন শব্দের অর্থ কী ? - মিঃগবেষক

ফেরাউন শব্দের অর্থ কী ?

ফেরাউন শব্দের অর্থ কী ?

ফেরাউন শব্দটি ফারাও শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ শাসক বা রাজা। 

আশ্চর্য এক দেশ মিশর। মানব সভ্যতাই শুরু হয়েছে এই মিশর থেকে। প্রাচীন মিশর হলো মানব সভ্যতার সূচনা ভূমি। আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর পূর্বে মিশরে মানব সভ্যতার উন্মেষ হয়। প্রাচীন মিশরকে নীল নদের দান  বলা হয়। মিশরকে নীল নদের দান হিসেবে প্রথম উল্লেখ করেছেন ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস। 

প্রাচীন এই সভ্যতার দেশ মিশরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শাসক শাসন করেছেন। শাসকদেরকে মিশরীয় ভাষায় ফারাও বলা হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি ফারাও শব্দের অর্থ শাসক। এই ফারাও শব্দ থেকেই ফেরাউন শব্দটি এসেছে। ফারাও শব্দটি আরো একটি অর্থে ব্যবহার করা হতো তাহলো বড় বাড়ি বা শাসকের বাড়ি। 

আজ আমরা মিশরের দিকে তাকালে দেখতে পাই পিরামিড ও স্ফিঙ্কস।  স্ফিঙ্কস হলো বিরাট মূর্তি। যার মাথা মানুষের দেহ সিংহের। এই পিরামিড গুলি কেন নির্মাণ করা হয়েছে তার ইতিহাস আজ অজানা। 

কীভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এই পিরামিড তার রহস্য আজ কেউ উন্মোচন করতে সক্ষম হয়নি। 

আল কুরআনে  যে ফেরাউনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে হলো রামেসিস ২। সে লোহিত সাগরে ডুবে মারা গেছে। মিশরের ফারাওদের মধ্যে সব চেয়ে নামকরা ফেরাউন হলেন তুতেনখামেন আর রানীদের মধ্যে হলেন ক্লিওপেট্রা।


ফেরাউন
ফেরাউন

প্রাচীণ মিসরের কিবতী বা মৎসজীবী সম্প্রদায়ের শাসক বংশের উপাধি ফেরাউন। ইংরেজীতে এদের ফারাও বলা হয়। ফেরাউন শব্দটি ফারউন শব্দ থেকে নির্গত। এর অর্থ শাখা-প্রশাখা। ফেরাউন শব্দের মর্মগত অর্থ রাজবংশের শাখা তথা উত্তরাধিকারী। পরিভাষায়: প্রাচীন মিসরের রাজপুরুষ। ইতিহাসে যতজন ফেরাউনের উল্লেখ রয়েছে এরা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। বলা হয়, হযরত মুসা আ. এর জীবনেই দু’জন ফেরাউনের সাথে তার সংগ্রাম করতে হয়েছিল। প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থে ফেরাউনদের নামের একটি তালিকা পাওয়া যায়, তবে এসবের ওপর পূর্ণ নির্ভর করা যায় না। কারণ এ পর্যায়ে ইতিহাস অনেকাংশেই জনশ্রুতি বা কিংবদন্তি নির্ভর হয়ে থাকে।

ফেরাউন মূলত কারো নাম নয়। বনি ইসরাইলিদের যুগের ধর্ম যাজক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের কর্তা ব্যক্তিদের উপাধি। পরবর্তীতে বনি ইসরাইলিরা যখন রাজ্য শাসনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন যারা ঐ অঞ্চলের রাজা হতো তাদেরকে ফেরাউন বলে সম্বোধন করা হতো। এখানে সংক্ষেপে ফেরাউনদের পরিচয় তুলে ধরা হলো-

আমালেকা জাতির রাজার খেতাব ছিল ফেরাউন।

মিশরের অধিবাসী কিবতীদের রাজার খেতাবও ছিল ফেরাউন।

হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময়ের (কিবতীদের শাসক) ফিরাউনের নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে-

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস ও পিথম নগরী নির্মাণ করেন। সে-ই হচ্ছেন দ্বিতীয় রামেসিস।

কেউ কেউ বলেন হজরত মুসা আলাইহিস সালাম মাদিয়ানে অবস্থানকালে ক্ষমতাসীন ফেরাউনের (অর্থাৎ দ্বিতীয় রামেসিসের) মৃত্যু ঘটে এবং হযরত মুসার জীবনের পরবর্তী ঘটনাবলী সংঘটিত হয় দ্বিতীয় রামেসিসের উত্তরাধিকারী মারনেপতাহর রাজত্বকালে।

কেউ কেউ বলেন, হজরত মুসা আলাইহিস সালামের যুগের ফেরাউনের নাম ছিল ওলীদ ইবনে মাসআব ইবনে রাইয়ান। তার বয়স হয়েছিল চারশত বছরেরও অধিক। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের যুগের ফেরাউনের নাম ছিল রাইয়ান। এ দুই ফেরাউনের মধ্যে ৪০০ বছর সময়ের ব্যবধান ছিল।

সুতরাং ফেরাউনদের নাম যাই হোক, তৎকালীন শাসকদের খেতাব ছিল ফেরাউন। ইতিহাসে এ সকল শাসকরা ফিরাউন নামে পরিচিতি লাভ করেছে। সর্বশেষ ফেরাউনের লাশ এখনো বিনা প্রক্রিয়া আল্লাহ তাআলা নির্দশন স্বরূপ অবিকল সংরক্ষণ করেছেন। যা মিসরের মিউজিয়ামে রয়েছে।

প্রশ্নঃপিরামিডের দেশ বলা হয় কোন দেশকে?
উত্তরঃ মিশরকে পিরামিডের দেশ  বলা হয়। 
প্রশ্নঃ নীল নদের দেশ কাকে বলা হয় ?
উত্তরঃ নীল নদের দেশ মিশরকে বলা হয়। 
প্রশ্নঃ নীল নদের দান কোন দেশকে বলা হয় ?
উত্তরঃ নীল নদের দান মিশরকে বলা হয়। 
প্রশ্নঃ কে মিশরকে নীল নদের দান বলে অভিহিত করেছে ?
উত্তরঃ গ্রিক ইতিহাসবিদ এবং ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস মিশরকে ইতিহাসের জনক বলেছেন। 
প্রশ্নঃ মিশর কোন মহাদেশে অবস্থিত ?
উত্তরঃ মিশর আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। 
প্রশ্নঃ নীল নদ কোন দেশে অবস্থিত ? 
উত্তরঃ নীল নদ মিশরে অবস্থিত।  



কোন মন্তব্য নেই

duncan1890 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.